× UCB Sticker Card
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম

প্রবাসীর সন্তানকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, সিআইডির জালে চক্রের দুই সদস্য

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়া প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— আরিফুল (৩০), পিতা: মো. শহিদুল্লা এবং সানি (২২), পিতা: মো. কামাল মিয়া। তাদের উভয়ের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার শফিরকান্দি (পূর্বপাড়া) গ্রামে।

সিআইডির ঢাকা মেট্রো-উত্তর বিভাগের একটি আভিযানিক দল গত ৯ জুন সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানার শফিরকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

সিআইডি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভিকটিম মানিকের (ছদ্মনাম) বাবা দীর্ঘ ৪ থেকে ৫ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য নিয়মিত অর্থ পাঠাতেন।

গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ভিকটিমের মোবাইল ফোনে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল আসে। কলদাতা জানায়, তার বাবা মালয়েশিয়া থেকে ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। টাকা গ্রহণের জন্য তাকে দক্ষিণখান থানার জয়নাল মার্কেট এলাকায় যেতে বলা হয়।

সরল বিশ্বাসে সেখানে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা অপহরণকারীরা তাকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে মিরপুর পল্লবীর একটি ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং তার কাছে থাকা নগদ ২০ হাজার ৫০০ টাকা ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

পরে অপহরণকারীরা ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়।

অপহরণের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলে অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়। পুলিশি তৎপরতার বিষয়টি টের পেয়ে অপহরণকারীরা ১২ জানুয়ারি গভীর রাতে ভিকটিমকে ডিএমপির আগারগাঁও থানার শেরে বাংলা নগর এলাকায় একটি অজ্ঞাত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে আসেন।

এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় পেনাল কোডের ৩৬৫, ৩২৩, ৩৪২, ৩৮৫, ৩৮৬, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর সিআইডি গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। বিভিন্ন তথ্যসূত্র ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতেন। ঘটনার কয়েকদিন আগে পরিকল্পনা করে বাংলাদেশে আসেন এবং অপরাধ সংঘটনের পর পুনরায় মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

সিআইডি আরও জানায়, চক্রটি গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় একই ধরনের অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এ ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত সানির বিরুদ্ধে বাঞ্ছারামপুর থানায় ২০২০ সালের একটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের স্বার্থে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

Link copied!