× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম

মাসে ১৩,৮০৩ টাকা জমা দিলেই ২০ বছরে কোটিপতি

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

একসময় দেশে কোটিপতি হওয়া ছিল বড় ধরনের ধনসম্পদের মাইলফলক। এখন নিয়মিত সঞ্চয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর সুযোগ দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। এমনই একটি সঞ্চয় স্কিম চালু রেখেছে এনসিসি ব্যাংক পিএলসি, যেখানে মাসে মাত্র ১৩ হাজার ৮০৩ টাকা জমা দিয়ে ২০ বছর শেষে এক কোটি টাকা পাওয়া সম্ভব।

ব্যাংকটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি নিয়মিত জমা প্রকল্প (ডিপিএস), যেখানে মেয়াদ ও মাসিক কিস্তির ওপর নির্ভর করে গ্রাহক কোটিপতি হতে পারেন। এই স্কিমের মেয়াদ ২, ৩, ৪, ৫, ১০, ১৫ ও ২০ বছর। বার্ষিক সুদের হার ধরা হয়েছে ১০ শতাংশ। তবে অর্জিত মুনাফার ওপর সরকার নির্ধারিত কর ও শুল্ক কর্তন করা হবে।

মাসে জমা কত টাকা

এই স্কিমে টাকা জমানোর আগে মাসিক কিস্তি ও মেয়াদ দেখে নিতে হবে। সুদের হার ধরা হয়েছে বার্ষিক ১০ শতাংশ। মেয়াদ যত বেশি, মাসিক কিস্তির হার তত কম। মেয়াদ যত কম, মাসিক কিস্তির হার তত বেশি।

এনসিসি ব্যাংকের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, দুই বছরের মধ্যে কোটিপতি হতে চাইলে আপনাকে প্রতি মাসে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৩৬ টাকা জমা দিতে হবে। এটি বড় কিস্তি, কিন্তু মাত্র দুই বছরে এক কোটি টাকা পাওয়া যাবে।

তিন বছরে কোটিপতি হতে চাইলে মাসিক কিস্তি কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২৬ টাকা। চার বছরের মেয়াদে এই কিস্তি দাঁড়ায় ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৩ টাকা। পাঁচ বছরের আরেকটু কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ টাকা।

এবার দীর্ঘ মেয়াদের চিত্রটা দেখা যাক। ১০ বছরের মেয়াদে কোটিপতি হতে চাইলে মাসে মাত্র ৪৯ হাজার ৬০২ টাকা জমা দিতে হবে। ১৫ বছরের মেয়াদে মাসিক কিস্তি কমে দাঁড়ায় ২৪ হাজার ৮৮১ টাকা। ২০ বছরের মেয়াদে মাসিক কিস্তি দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৮০৩ টাকা।

নিয়মকানুন কী

এ ধরনের কোটিপতি হওয়ার স্কিমে হিসাব খুলতে কিছু কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়। কিছু নিয়মকানুন ও বৈশিষ্ট্য আছে। যেমন—

১. যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক এই হিসাব খুলতে পারবেন।

২. অপ্রাপ্তবয়স্কদের নামেও এই হিসাব খোলা যায়। যতক্ষণ না তার ১৮ বছর পূর্ণ হচ্ছে, ততক্ষণ আইনি অভিভাবক এই হিসাব পরিচালনা করবেন।

৩. বাংলাদেশে অনুমোদন পাওয়া সব ধরনের ফার্ম, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা ও কোম্পানি এই হিসাব খুলতে পারবে।

৪. গ্রাহক এক বা একাধিক হিসাব খুলতে পারেন; একক বা যৌথ নামে।

৫. বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও এসএমএস সেবা।

৬. চলতি বা সঞ্চয়ী হিসাব থেকে স্কিম অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর।

মেয়াদের আগে ভাঙলে কী হবে

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের রীতি অনুযায়ী, মেয়াদের আগে এফডিআর ভাঙলে কিছু ক্ষতি হবে। এ ক্ষেত্রে তা-ই হবে।

এনসিসি ব্যাংকের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, ছয় মাসের কম জমার জন্য সুদ পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ এত অল্প সময়ের জন্য সুদ পাওয়া যায় না।

এ ছাড়া ছয় মাসের বেশি, কিন্তু এক বছরের কম জমার ক্ষেত্রে প্রথম ছয় মাসের জন্য তিন মাসের এফডিআর হার প্রযোজ্য হবে। বাকি সময়ের জন্য সঞ্চয়ী হিসাবের সুদের হার যুক্ত হবে।

এক বছরের বেশি, কিন্তু দুই বছরের কম জমার ক্ষেত্রে প্রথম এক বছরের জন্য ছয় মাসের এফডিআর হার প্রযোজ্য হবে। বাকি সময়ের জন্য সঞ্চয়ী হিসাবের সুদ প্রযোজ্য হবে।

দুই বছরের বেশি, কিন্তু ৩, ৪, ৫, ১০, ১৫ ও ২০ বছরের কম সময়ের জন্য প্রতিটি পূর্ণ বছরের জন্য এক বছরের এফডিআর হার প্রযোজ্য হবে। বাকি সময়ের জন্য সঞ্চয়ী হিসাবের সুদ প্রযোজ্য হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

হিসাব খুলতে সাধারণত যেসব কাগজপত্র লাগে, এ ক্ষেত্রেও তা-ই লাগবে। আপনার নিজের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), নমিনির ছবি ও এনআইডি এবং ওই ব্যাংকে হিসাব আছে, এমন একজন পরিচয়দানকারী। ফরমের নির্দিষ্ট স্থানে সবার স্বাক্ষর লাগবে। জরুরি প্রয়োজনে ব্যাংক যোগাযোগ করবে, এমন একজনের নাম-ঠিকানাও দিতে হবে।

সতর্কতা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঞ্চয় করার আগে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি আয়ের শুরুতেই সঞ্চয়ের অংশ আলাদা করে রাখা উচিত। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুললে দীর্ঘ মেয়াদে বড় অঙ্কের অর্থ জমানো সম্ভব।

নিয়মিত সঞ্চয় ও পরিকল্পিত আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই ধীরে ধীরে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!