× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম

দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও টেকসই বৃদ্ধির পথে আইএফআইসি ব্যাংক

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম

আইএফআইসি ব্যাংকের লোগো। ছবি : সংগৃহীত

আইএফআইসি ব্যাংকের লোগো। ছবি : সংগৃহীত

দেশের আর্থিক খাত কয়েক বছর ধরে বহুমাত্রিক চাপে রয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ নীতিগত রদবদল, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আস্থার সংকট—সব মিলিয়ে ব্যাংকিং খাত অতিক্রম করছে এক কঠিন সময়। এই চ্যালেঞ্জিং বাস্তবতায় দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও গ্রাহক আস্থাকে ভিত্তি করে ভবিষ্যৎমুখী রূপান্তরের পথে এগোচ্ছে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি।

প্রায় পাঁচ দশকের যাত্রায় দেশের প্রথম প্রজন্মের এই ব্যাংকটি নানামুখী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের সাক্ষী হয়েছে। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত বাস্তবতায় আইএফআইসি ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে এগিয়ে গেছে, কখনোই মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়নি। 

এরই প্রতিফলন দেখা যায় ব্যাংকটির শক্তিশালী আমানতভিত্তি, যা ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থার প্রতিফলন। এ ছাড়া দেশের সর্ববৃহৎ ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক, তরুণ ও দক্ষ নেতৃত্বনির্ভর কর্মশক্তি এবং তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল তারল্য অবস্থান—এই সমন্বিত শক্তির ওপর ভর করেই আইএফআইসি ব্যাংক আস্থা পুনর্গঠন ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে অগ্রসর হওয়ার প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে।

সৃদৃঢ় তারল্য ব্যবস্থাপনা

আইএফআইসি ব্যাংকের নিট আমানতের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি গত এক বছরে ব্যাংকটির সুদৃঢ় ও কার্যকর তারল্য ব্যবস্থাপনার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। বর্তমানে ব্যাংকের মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা, যেখানে গত এক বছরে আমানত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৯ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হলো রিটেইল আমানতে ১৭.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, যা সাধারণ গ্রাহক ও আমানতকারীদের ব্যাংকের প্রতি দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাসের সুস্পষ্ট প্রমাণ। 

একই সঙ্গে সুষম আর্থিক ব্যবস্থাপনার ফলে ব্যাংকের অ্যাডভান্স-ডিপোজিট রেশিও (ADR) ৮৪.১৯ শতাংশ এবং লোন-ডিপোজিট রেশিও (LDR) ৮৫.৫৯ শতাংশে অবস্থান করছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা ৮৭ শতাংশের নিচে রয়েছে।

পাশাপাশি, ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (CRR) ২০২৪ সালে ৫.১৯ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫.৪৮ শতাংশে এবং স্ট্যাটুটরি লিকুইডিটি রেশিও (SLR) ১৩.২৩ শতাংশ থেকে উন্নীত হয়ে ১৫.৭৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এসব সূচক সম্মিলিতভাবে ব্যাংকের আর্থিক ভিতের দৃঢ়তা এবং আমানতের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতাকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।

খেলাপি ঋণ কমানোই প্রধান অগ্রাধিকার

খেলাপি ঋণ বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং এই বাস্তবতার বাইরে নয় আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঋণ আদায় ও সম্পদের মানোন্নয়নকে ব্যাংকটি সর্বোচ্চ কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছে। ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, শুধু ২০২৫ সালেই আইএফআইসি ব্যাংক প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি  টাকা ঋণ আদায় করতে সক্ষম হয়েছে, যা একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা ও কঠোর বাস্তবায়নের প্রতিফলন। শক্তিশালী ঋণ অনুমোদন কাঠামো, ঝুঁকিভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা এবং সমন্বিত আদায় কার্যক্রমের মাধ্যমে নিকট ভবিষ্যতেই খেলাপি ঋণের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে ব্যাংকটি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগগুলো ব্যালান্স শিটের ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে স্পেশাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, লিগাল অ্যাফেয়ার্সসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ও ইউনিটগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ব্যবসায়িক মডেল পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন স্তরে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা ব্যাংকটির ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও সামগ্রিক কার্যকারিতা উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অপপ্রচারেও হয়নি গ্রাহক আস্থার ভাঙন 

সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা ও গুজব ছড়ানোর ঘটনা দেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি জানিয়েছে, বহুমুখী চাপ থাকা সত্ত্বেও তারা আমানতকারীদের আস্থা অটুট রাখতে সক্ষম হয়েছে। ব্যাংকটির দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত এক বছরে প্রায় তিন লাখ নতুন গ্রাহক আইএফআইসি ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। একই সময়ে প্রায় আট লাখ নতুন হিসাব খোলা হয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত আইএফআইসি ব্যাংক কখনো কোনো গ্রাহকের চেক প্রত্যাখ্যান করেনি। এটি ব্যাংকটির তারল্য ব্যবস্থাপনা ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে শৃঙ্খলার ধারাবাহিকতা তুলে ধরে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সম্ভাব্য তারল্য সংকট নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সেই সময়েও ব্যাংকটি গ্রাহকদের জন্য সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রেখেছে। যেকোনো অঙ্কের অর্থ উত্তোলন, ঋণ সুবিধা এবং নিয়মিত লেনদেন স্বাভাবিক গতিতেই সম্পন্ন হয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, ব্যাংকিং খাতের এই অস্থির সময়েও আইএফআইসি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণোদনাভিত্তিক কোনো তারল্য সহায়তা গ্রহণ করেনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি ব্যাংকটির নিজস্ব তারল্য সক্ষমতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।

ফরেনসিক অডিটকে সুযোগ হিসেবে দেখছে ব্যাংকটি

ব্যাংকিং খাতে ফরেনসিক অডিট প্রসঙ্গে সাধারণত এক ধরনের উদ্বেগ ও ভুল ব্যাখ্যার প্রবণতা দেখা যায়। বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে নানামুখী আলোচনা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়টি নেতিবাচকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তবে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি এই প্রক্রিয়াকে কোনো আশঙ্কা বা সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছে না। ব্যাংকটির মতে, ফরেনসিক অডিট বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নিয়মিত ও স্বীকৃত তদারকি ব্যবস্থা, যা আন্তর্জাতিকভাবে অনুসৃত সেরা চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইএফআইসি ব্যাংক মনে করছে, এই অডিট তাদের করপোরেট গভর্ন্যান্স কাঠামো, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা পরিপালনের সক্ষমতা যাচাই ও উপস্থাপনের একটি সুযোগ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষণানুসারে, পর্যায়ক্রমে দেশের সব ব্যাংকের ক্ষেত্রেই ফরেনসিক অডিট কার্যক্রম চালু করা হবে, যার মাধ্যমে পুরো ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মান আরও উন্নত হবে। ফলে কোনো ব্যাংকে ফরেনসিক অডিট হচ্ছে—এই বিষয়টিকে ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার দুর্বলতার প্রতীক হিসেবে দেখার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

নেটওয়ার্ক শক্তিশালী, এটিএম বাড়ানোর পরিকল্পনা

বর্তমানে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসির শাখা ও উপশাখার সংখ্যা ১,৪০০-এর বেশি, যা দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক হিসেবে বিবেচিত। গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকাগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে, যার ফলে প্রান্তিক পর্যায়েও ব্যাংকিং সেবা পৌছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এই নেটওয়ার্কের পাশাপাশি গ্রাহক চাহিদার কথা মাথায় রেখে ব্যাংকটি এটিএম সেবার সম্প্রসারণেও জোর দিচ্ছে। 

নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যে আইএফআইসি ব্যাংকের এটিএম বুথের সংখ্যা ১৫০ ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার ব্যাংকিং সেবাকে আরও সহজলভ্য ও গ্রাহকবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং সেবাকে আরও সহজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে আইএফআইসি ব্যাংক তার সার্ভিস মডেলেও পরিবর্তন আনছে। লক্ষ্য হলো কার্যক্রমকে আরও দক্ষ করে বৃহত্তর পরিসরে গ্রাহকদের কাছে মানসম্মত ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেবার পরিধি বাড়ানো।

সংকটের মধ্যেও স্থিতিশীল নেতৃত্ব

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাবে আর্থিক খাতে পরিচালন পরিবেশ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে জুলাই ২০২৪-এর ঘটনাপ্রবাহ আইএফআইসি ব্যাংকের জন্যও আত্মসমালোচনা ও পুনর্মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হয়—বিশেষত আমানত প্রবণতা ও খেলাপি ঋণের অবস্থান নিয়ে। এর ধারাবাহিকতায় আগস্ট ২০২৪-এ বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে আইএফআইসি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। বিভিন্ন খাতের অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্ত করে গঠিত নতুন পর্ষদের মূল লক্ষ্য ছিল করপোরেট সুশাসন শক্তিশালী করা এবং ব্যাংকের জন্য একটি স্পষ্ট ও টেকসই কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণ। 

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রভাব ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা জোরদার হয়েছে, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত উন্নতি এসেছে এবং সার্বিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে—যা ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

তরুণ কর্মশক্তিতে ভবিষ্যতের প্রস্তুতি

আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসির মানবসম্পদ কাঠামোতে তরুণ কর্মীদের আধিক্য স্পষ্ট—বর্তমানে ব্যাংকটির মোট কর্মীর ৮০ শতাংশের বেশি তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করছে। এই জনশক্তিকে কেন্দ্র করেই ডিজিটাল দক্ষতা, লক্ষ্যনির্ভরতা এবং গ্রাহকসেবামুখী মানসিকতা গড়ে তোলাকে মানবসম্পদ উন্নয়নের মূল অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে নিয়মিত টাউন হল সভা ও আঞ্চলিক বৈঠকের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ ব্যবস্থাপনা কিমিটির সদস্যেরা সরাসরি কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এর ফলে ব্যাংকের ভিশন, কৌশলগত লক্ষ্য ও প্রত্যাশা সর্বস্তরে স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ারই প্রতিফলন হিসেবে গত এক বছরে ব্যাংকের বিভিন্ন স্তরে মোট ১ হাজার ১২২ জন কর্মীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অগ্রগতি কর্মদক্ষতাভিত্তিক সংস্কৃতি, স্বচ্ছ মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং তরুণ নেতৃত্ব বিকাশে ব্যাংকটির অঙ্গীকারের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে জোর

আইএফআইসি ব্যাংকের ডিজিটাল রূপান্তরের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো ‘আইএফআইসি আমার অ্যাপ’। মোবাইল অ্যাপের পাশাপাশি সম্প্রতি এর ওয়েব সংস্করণও চালু করা হয়েছে, যা গ্রাহকদের আরও নির্বিঘ্ন ও সুবিধাজনক ডিজিটাল ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা প্রদানের উদ্দেশ্যে তৈরি। ব্যাংকটির লক্ষ্য হলো শাখাভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে দ্রুত, নিরাপদ ও ব্যবহারবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা। বিশেষজ্ঞ দল ধারাবাহিকভাবে অ্যাপটির নিরাপত্তা, গতি এবং ব্যবহারযোগ্যতা উন্নয়নে কাজ করছে। ব্যাংক সূত্রে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যে অ্যাপটির কার্যকারিতা আরও বিস্তৃত ও উন্নত হবে, যা গ্রাহকসংক্রান্ত সেবার মান ও পৌঁছানোর পরিধি দুটোই বৃদ্ধি করবে।

গৃহঋণে শক্ত অবস্থান

আইএফআইসি ব্যাংকের ‘আমার বাড়ি’ হোম লোন ব্যাংকের অন্যতম প্রধান রিটেল ঋণ পণ্য হিসেবে সুপরিচিত। দেশের বিস্তৃত অঞ্চলের গ্রাহকদের মধ্যে এই ঋণ পণ্যটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ঋণ বিতরণের সংখ্যা এবং প্রদত্ত অর্থ—উভয় ক্ষেত্রেই ‘আমার বাড়ি’ হোম লোন শুধু ব্যাংকটির নয়, সমগ্র দেশের ব্যাংকিং খাতের শীর্ষস্থানীয় পণ্যগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে নিজস্ব ব্র্যান্ড ভ্যালু নিশ্চিত করেছে। ‘আমার বাড়ি’ হোম লোন একটি নতুন বা পুরোনো ফ্ল্যাট কেনা, বাড়ি নির্মাণ, সংস্কার কার্যক্রম সম্পত্তি বন্ধক রাখা সাপেক্ষে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায়।

এই সাফল্যের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে আন্তরিক ও উন্নত গ্রাহক সেবা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং গ্রাহক প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টমাইজড সমাধান প্রদানের ক্ষমতা। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা শুধু আর্থিক সুবিধা নয়, পুরো লোন প্রক্রিয়া জুড়ে সহজ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন, যা ‘আমার বাড়ি’ হোম লোনকে দেশের বাজারে শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সামনের পথচলা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সহজ নয়। তবে আইএফআইসি ব্যাংক বিশ্বাস করে, সম্পদের মানোন্নয়ন, স্বচ্ছতা, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং মানবসম্পদে বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে গ্রাহক ও বাজারের আস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব। বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতের পথে অগ্রসর হওয়া এই যাত্রায় আইএফআইসি ব্যাংক নিজেকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি দায়িত্বশীল ও সক্রিয় অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।
 

Link copied!