চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে হচ্ছে না। এই ঘোষণার পর বন্দরে চলমান ধর্মঘট আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ৫ দফা দাবি জানিয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান সরকারের মাননীয় উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন এবং বন্দর চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী এনসিটি চুক্তি না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে রাত ৯টায় সংগ্রাম পরিষদের দুই সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহীম খোকন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মঘট অব্যাহত রাখার বিষয়টি জানানো হয়। তবে পরে ধর্মঘট স্থগিতের চিঠিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কর্মচারীদের ওপর বিভিন্ন হয়রানিমূলক পদক্ষেপের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
সংগ্রাম পরিষদ ৫টি প্রধান হয়রানির কথা জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে:
১. চট্টগ্রাম বন্দরের ৫ জন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার ও হয়রানিমূলক মামলা প্রদান।
২. বন্দরের ১৫ জন কর্মচারীকে দেশের বিভিন্ন বন্দরে হয়রানিমূলক বদলি।
৩. আন্দোলনরত ও কর্মরত কর্মচারীদের নানাবিধ শাস্তি।
৪. আন্দোলনরত কর্মচারীদের বাসা বরাদ্দ বাতিল।
৫. সাময়িক বরখাস্তসহ ১৬ জনকে বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, আসন্ন রমজানের পণ্য খালাস স্বাভাবিক রাখার এবং ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব বিবেচনা করে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা শেষে ধর্মঘট ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
সংগঠনটির সমন্বয়করা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যদি ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই ৫টি সমস্যা সমাধান না হয়, তবে ১৬ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এর আগে দুপুর থেকে পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছয়জনকে গত রাতে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ‘তুলে নিয়ে গেছে’। এ সংক্রান্ত একটি ছবিও প্রকাশিত হয়েছে।
পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন রবিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে হচ্ছে না। নির্বাচনের পরে রাজনৈতিক সরকারের সময়ে এটি হতে পারে।
এর আগে ধর্মঘট শুরুর দিনে এবং ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন