× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে দেশ : অর্থমন্ত্রী

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

অর্থ ও পরিকল্পণামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতি একটি অত্যন্ত নাজুক বা খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো, এই অর্থনীতিকে উদ্ধার করা এবং একই সাথে নির্বাচনি ইশতেহারে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করা। বর্তমানে দেশ একটি ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, যার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের অতিরিক্ত দাম একটি বড় সমস্যা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রিসোর্স মোবিলাইজেশন বা সম্পদ আহরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

তিনি বলেন, সরকার নতুন করে টাকা ছাপিয়ে বাজার সচল করার পক্ষে নয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আমাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। 

বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) বাজেট আলোচনা শেষে সাংবাদিকের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন তিনি। 

অর্থ ও পরিকল্পণামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ঋণ নির্ভর অর্থনীতির চেয়ে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতির কথা ভাবছি। তবে সরকার নতুন করে টাকা ছাপাতে আগ্রহী নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। উত্তরণের সময়সীমা আরও ৩ বছর পেছানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি চিঠি পাঠাবেন, যা পরবর্তীতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে (জেরারেল অ্যাসমবেলি) যাবে। এই বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনাধীন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

মন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেটে রাজস্ব আহরণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাজেটে মূলত নারী উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি জনবান্ধব বাজেট প্রণয়নের কাজ চলছে। বিশেষজ্ঞরা জিডিপির (জিডিপ) আকার ও ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সরকার এখন ঋণ-নির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বিনিয়োগ-নির্ভর অর্থনীতির দিকে মনোনিবেশ করতে চাচ্ছে। আসন্ন বাজেটে রাজস্ব আহরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এবারের বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো বঞ্চিত মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া।

বিনিয়োগ ও নীতিমালার স্থিতিশীলতা নিয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার নীতিমালার স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিচ্ছে। আগে ঘন ঘন নীতি পরিবর্তনের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে ভুল বার্তা যেত তা নিরসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে যাতে বিনিয়োগকারীরা স্বস্তির সাথে বিনিয়োগ করতে পারেন। এ ছাড়া পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বড় ধরনের ডিরেগুলেশন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার বিষয়ে বলেন, বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। আগে অনেক সময় বাজেটের সুবিধা সাধারণ বা বঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছাত না, কিন্তু এবার সরকার তাদের পাওনা নিশ্চিত করে তারপর বাজেটের অন্যান্য বিষয় সাজানোর পরিকল্পনা করছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে এই বঞ্চিত মানুষদের সুরক্ষা দেওয়ার কাজ চলছে।

রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অর্থ ও পরিকল্পণামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রপ্তানি খাতে শুধু তৈরি পোশাক বা গার্মেন্টসের ওপর নির্ভরশীল না থেকে খাতটিকে বহুমুখী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতকেও গার্মেন্টসের মতো বন্ডেড ওয়্যারহাউস এবং ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

এ ছাড়া দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে জাপান ও জার্মানির রাষ্ট্রদূতের সাথে আলোচনা চলছে, বিশেষ করে এই সংকটের সময়ে তাদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে এবং অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারলে দেশে প্রচুর বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে বলে সরকার আশাবাদী। বর্তমানে এই সমস্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলেন তিনি।

বিনিয়োগ-নির্ভর অর্থনীতির পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার এখন ঋণ-নির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বিনিয়োগ-নির্ভর অর্থনীতির দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে সরকার নতুন করে টাকা ছাপিয়ে বাজার সচল করার পক্ষে নয়।

পুঁজিবাজার সম্পর্কে তিনি বলেন, আগে ঘন ঘন নীতিমালা পরিবর্তনের ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল বার্তা যেত। এখন সরকার দীর্ঘমেয়াদী এবং স্থিতিশীল পলিসি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যাতে বিনিয়োগকারীরা স্বস্তির সাথে অর্থ বিনিয়োগ করতে পারেন। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং আর্থিক ও পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার সিরিয়াস ডিরেগুলেশন বা নিয়মকানুন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকা বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ দেশে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এলডিসি নিয়ে জাপান ও জার্মানির সাথে আলোচনা সম্পর্কে বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় জাপান ও জার্মানির রাষ্ট্রদূতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সময়সীমা আরও ৩ বছর পেছানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি চিঠি পাঠাবেন, যা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পর্যালোচিত হবে। এই প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।

বঞ্চিতদের দিয়ে বাজেট শুরু করা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগে অনেক সময় শিল্প বা উৎপাদন খাতের ওপর বেশি জোর দিতে গিয়ে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষরা বাজেটের সুফল থেকে বাদ পড়ে যেত। এবার সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বঞ্চিত মানুষদের পাওনা ও প্রয়োজনীয়তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন শুরু করা হবে।

তিনি বলেন, বাজেটের দোহাই দিয়ে এই মানুষগুলোকে উন্নয়নের সুবিধার বাইরে রাখা হবে না। বরং তাদের পাওনা আগে নিশ্চিত করা হবে এবং তার ওপর ভিত্তি করেই বাজেটের অন্যান্য বিষয়গুলো সাজানো হবে। প্রান্তিক ও বঞ্চিত মানুষদের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচিগুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিান আরও বলেন, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং আর্থিক ও পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার সিরিয়াস ডিরেগুলেশন বা নিয়মকানুন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকা বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ দেশে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!