ঢাকা বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। আর এই পার্বণের তালিকায় পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষের স্থান সবার ওপরে। নববর্ষ বরণের ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে পান্তা-ইলিশের নাম। কিন্তু বছরের এই একটি সময় এলেই যেন ইলিশের গায়ে ‘আগুন’ লাগে। সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যায় জাতীয় মাছের দাম।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বৈশাখী চাহিদাকে পুঁজি করে ইলিশের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম বেড়েছে প্রায় ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। বর্তমানে এক কেজি ওজনের একটি ভালো মানের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকায়। আর দেড় কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া।
খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, আড়ত থেকেই তাদের বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। তবে পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৈশাখ উপলক্ষে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী হিমাগারে রাখা মাছ বাজারে ছেড়ে মোটা অঙ্কের মুনাফা লুটছে। অন্যদিকে, বর্তমানে জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের প্রজনন মৌসুমের সীমাবদ্ধতার কারণে বাজারে টাটকা ইলিশের জোগানও তুলনামূলক কম।
বাজারে আসা এক মধ্যবিত্ত ক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, “বাঙালির উৎসব মানেই এখন কিছু ব্যবসায়ীর উৎসব। বৈশাখ এলেই ইলিশের দাম এমনভাবে বাড়ানো হয় যে, আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য পান্তা-ইলিশ খাওয়া এখন বিলাসিতা মাত্র।” অনেকেই ইলিশের বদলে বিকল্প হিসেবে রুই বা কাতল মাছ দিয়ে উৎসব উদযাপনের কথা ভাবছেন।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, বৈশাখের সঙ্গে পান্তা-ইলিশের এই সংস্কৃতি যতটা না প্রাচীন, তার চেয়ে বেশি বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। কৃত্রিম এই সংকট মোকাবিলায় নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং পান্তা-ইলিশের পরিবর্তে বৈশাখের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী দেশি খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন