পাঁচটি সংকটাপন্ন ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ডিসেম্বরের মধ্যেই ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রক্রিয়া শেষ করে আমানতকারীদের অর্থ নিশ্চিতভাবে ফেরত দিতে হবে।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় গভর্নর দ্রুত আইটি সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন, যাতে আমানত ফেরতের ক্ষেত্রে কোনো প্রযুক্তিগত জটিলতা না থাকে। একই সঙ্গে নতুনভাবে গঠিত ব্যাংকের জন্য একটি সমন্বিত মানবসম্পদ নীতিমালা প্রণয়নের কথাও বলা হয়। একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে পদবি, গ্রেড ও পদোন্নতির পার্থক্য দূর করে একক কাঠামোর আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়।
গভর্নর জানান, সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যেই আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকরা আগে ইস্যু করা চেক ব্যবহার করেই অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। জানানো হয়, আগামী জানুয়ারিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে, তবে তার আগেই আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হবে।
বৈঠকে উপস্থিত পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তারা জানান, অতীতের অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে সংকটে পড়া পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে নতুনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা যায়।
প্রসঙ্গত, এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছে। এসব ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষাই এই পুনর্গঠনের মূল লক্ষ্য।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন