ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ঈদ গেলেও কমেনি নিত্যপণ্যের দাম, ভোগান্তিতে ক্রেতা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১১:১৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত

রোজা ও ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে বাড়তি চাহিদায় যেসব নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছিল, সেগুলোর বেশিরভাগই এখনো উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে ভোজ্যতেল, গরুর মাংস ও সোনালি মুরগির দাম ঈদের পরও কমেনি, যা ক্রেতাদের হতাশ করেছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচা, খিলগাঁও, মুগদা, মানিকনগরসহ বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। যদিও ডিম, আলু ও পেঁয়াজের মতো কিছু পণ্যের দাম কিছুটা কম রয়েছে এবং চাল, ডাল ও চিনির দাম স্থিতিশীল আছে।

বাজারে গরুর মাংসের দামে অস্থিরতা দেখা গেছে। বেশিরভাগ এলাকায় প্রতি কেজি ৮৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও কোথাও ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়ও পাওয়া যাচ্ছে। রোজার শুরুতে ৭৫০-৮০০ টাকা থাকা দাম ঈদের আগে কোথাও কোথাও ৯০০ টাকা পর্যন্ত ওঠে।

খিলগাঁও বাজারের ক্রেতা হারুন অর রশিদ বলেন, একই শহরে গরুর মাংসের দামে বড় পার্থক্য রয়েছে, যা বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নির্দেশ করে।

সোনালি জাতের মুরগির দামও বেড়েছে। ঈদের আগে ৩৪০-৩৭০ টাকা কেজি থাকলেও বর্তমানে তা ৩৮০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ রোজার শুরুতে এ দাম ছিল ২৭০-৩২০ টাকার মধ্যে।

ভোজ্যতেলের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের লিটার ১৯০-১৯২ টাকা এবং পাম অয়েল ১৮৪-১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৭-১০ টাকা এবং পাম অয়েলের দাম ৯-১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় খোলা সয়াবিন তেল লিটারে ১৪-১৬ টাকা এবং পাম অয়েল ১৮-১৯ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা লিটারেই স্থির থাকলেও বাজারে সরবরাহ সংকট রয়েছে।

গোলাম মাওলা, সভাপতি, বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আমদানি ব্যাহত হওয়ায় মিলগেট পর্যায়ে তেলের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়ায় এর প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।

এদিকে সবজির দামও আবার বাড়তে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে পটোল ৮০-৮৫ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৭০-৭৫ টাকা, উচ্ছে ১০০-১২০ টাকা এবং বেগুন ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শিম বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি।

ব্যবসায়ীরা জানান, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সবজির দাম বেড়েছে। এছাড়া মৌসুম শেষের দিকে থাকায় কিছু পণ্যের দাম স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে।