ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বাড়ল প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মঘণ্টা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
বাড়ল প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মঘণ্টা। ছবি- সংগৃহীত

এবার প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য এলো আরেক দুঃসংবাদ। বাৎসরিক ছুটি কমানোর পর নতুন করে বাড়ানো হলো ক্লাসের সময় ও কর্মঘণ্টা। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত নতুন রুটিন অনুযায়ী এক শিফটের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আধাঘণ্টা এবং দুই শিফটের বিদ্যালয়ে ১৫ মিনিট করে সময় বাড়ানো হয়েছে, যা নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দেওয়া ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের রুটিন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এক শিফটের বিদ্যালয়ে ক্লাসের সময় ৩০ মিনিট বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে এক শিফটের বিদ্যালয়ে ক্লাস শেষ হতো দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে। তবে ২০২৬ সালের নতুন রুটিন অনুযায়ী এসব বিদ্যালয়ে ক্লাস শেষ হবে বিকেল ৪টায়। এতে এক শিফটের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান সময়ের পাশাপাশি শিক্ষকদের কর্মঘণ্টাও আধাঘণ্টা বেড়ে গেল।

অন্যদিকে দুই শিফটের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ক্লাসের সময় বাড়ানো হয়েছে। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে দুই শিফটের বিদ্যালয়ে বিকেল ৪টায় ছুটি হতো। নতুন রুটিন অনুযায়ী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে এসব বিদ্যালয়ে ছুটি হবে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে। ফলে দুই শিফটের বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কর্মঘণ্টা বেড়েছে ১৫ মিনিট।

নতুন এই সিদ্ধান্তে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তারা বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, পদোন্নতি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। কিন্তু সরকার তাদের দাবিগুলো আমলে নেয়নি। উল্টো আন্দোলনের সময় শিক্ষকদের সমাবেশে হামলা, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বদলি এবং নানাভাবে হয়রানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে প্রাথমিকের শিক্ষাপঞ্জিতে বাৎসরিক ছুটি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষকদের বিশ্রাম ও ব্যক্তিগত সময় আগের তুলনায় কমে গেছে। এর ওপর এবার আবার ক্লাসের সময় বাড়ানো হওয়ায় শিক্ষকদের ওপর কাজের চাপ আরও বেড়ে গেল। 

এ অবস্থায় ক্লাসের সময় ও কর্মঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। তারা বলছেন, শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনা বাড়ানো জরুরি, শুধু কর্মঘণ্টা বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২০২৫ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস ও পরীক্ষার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা গেছে। এ নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি পূরণ এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের কথা মাথায় রেখেই ক্লাস রুটিনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সামনে প্রাথমিক শিক্ষায় আরও কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আসতে পারে।

নতুন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে প্রাথমিক শিক্ষার মান কতটা উন্নত হবে, নাকি এতে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে।