শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষ হতে যাচ্ছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। দেশের ৬৭ হাজার শূন্য শিক্ষক পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার।
তিনি জানিয়েছেন, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬৭ হাজার শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষা উপদেষ্টা গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘দেশের বেকারত্ব কমানো এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উপযুক্ত শিক্ষকের নিয়োগ দেওয়া সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। আমরা সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে আরও এক ধাপ এগোচ্ছি।’
উপদেষ্টা জানান, দেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার সব শূন্য পদে যোগ্য শিক্ষার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করা সরকারের লক্ষ্য। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য এনটিআরসিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি শিক্ষিত, দক্ষ এবং শিক্ষকতা পেশায় আন্তরিক প্রার্থীদের আবেদন করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
শিক্ষার মানোন্নয়নে আজকের শিক্ষকরাই আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রার্থীরা তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত পদে আবেদন করবেন, যাতে শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।
শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, সম্প্রতি এনটিআরসি থেকে প্রাপ্ত আবেদন ও শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার জন্য বেশ কয়েকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রক্রিয়াটি দ্রুত শেষ করার জন্য।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো শিক্ষা ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও আস্থাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। এতে দেশের শিক্ষিত তরুণরা শিক্ষা খাতে প্রবেশের সুযোগ পাবে এবং বেকারত্ব কমবে।’
শিক্ষা উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেছেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন গতিশীলতা আনবে। একদিকে দেশের বেকারত্ব কমবে, অন্যদিকে শিক্ষাক্ষেত্রে তরুণ ও মেধাবীরা সুযোগ পাবেন। আজকের শিক্ষকরা আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থার রক্ষাকর্তা হবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শিক্ষা ক্ষেত্রে ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা এবং দক্ষতার নিশ্চয়তা দেবে। আমাদের লক্ষ্য শিক্ষাখাতকে আরও মানসম্মত ও গতিশীল করা।’
শিক্ষা উপদেষ্টা সব শিক্ষিত যুবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যারা শিক্ষকতা পেশায় আন্তরিক এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রাখতে চান, তারা যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন করবেন।
তিনি আরও বলেন, এটি দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
শূন্য পদ ও সংখ্যা
উপদেষ্টার মতে, সরকারের লক্ষ্য হলো প্রতিটি শূন্য পদ পূরণ করা। নিয়োগের বিস্তারিত সংখ্যা অনুযায়ী:
- মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর: ২৯,৩২৫টি পদ
- কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর: ৮৩৩টি পদ
- মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর: ৩৬,৮০৪টি পদ
- মোট ৬৬,৯৬২টি শূন্য পদ রয়েছে।




