ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী-শিক্ষকদের কাছে ব্যালট পেপার পাঠানো শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, যেসব শিক্ষক পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন, তাদের ব্যালট আজ থেকেই পাঠানো হচ্ছে। একই প্রক্রিয়ায় ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও কারাবন্দিরাও এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
ইসি সচিব জানান, ব্যালট পেপার হাতে পাওয়ার পর দ্রুত ভোট প্রদান করে তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেরত পাঠাতে হবে। ভোটের দিন বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ব্যালট পৌঁছাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে পৌঁছানো কোনো ব্যালট ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
এদিকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানকারী শিক্ষকদের জন্য নতুন নির্দেশনাও জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানায়, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপে নিবন্ধিত শিক্ষকদের ব্যালট হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভোট প্রদান করে ডাকযোগে পাঠাতে হবে। ডাক বিভাগের সম্ভাব্য বিলম্ব বিবেচনায় নিয়ে ভোটারদের যত দ্রুত সম্ভব ব্যালট পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ইসি আরও জানায়, দেশের ভেতরের পোস্টাল ব্যালটে প্রতীকের পাশাপাশি প্রার্থীর নাম উল্লেখ থাকবে, যাতে ভোটাররা সহজে ও নির্ভুলভাবে ভোট দিতে পারেন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, দেশে ও দেশের বাইরে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোটার পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছেন, যার প্রায় অর্ধেক ভোটার দেশের ভেতরে অবস্থান করছেন।
যেসব কারণে শিক্ষকদের পোস্টাল ব্যালট বাতিল হবে
নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে শিক্ষকদের পোস্টাল ব্যালট বাতিল বলে গণ্য হবে:
- খামের ভেতরে নির্ধারিত ঘোষণাপত্র সংযুক্ত না থাকলে
- ঘোষণাপত্রে ভোটারের স্বাক্ষর না থাকলে
- ব্যালট পেপারে একাধিক প্রতীকে ঠিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হলে
- কোনো প্রতীকে ঠিক বা ক্রস চিহ্ন না দিলে
- এমনভাবে ঠিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হলে, যাতে কোনো প্রার্থী বা প্রতীকের পক্ষে ভোট দেওয়া হয়েছে তা যুক্তিসংগতভাবে নিশ্চিত করা যায় না
সংশ্লিষ্ট আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো প্রতীকে ঠিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হলে
ব্যালট পেপারে নির্ধারিত ঠিক বা ক্রস চিহ্নের বাইরে অন্য কোনো চিহ্ন বা অন্য স্থানে চিহ্ন দেওয়া হলে
নির্বাচন কর্মকর্তাদের সতর্কতা।
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে ভোটার নিজে উপস্থিত না থাকায় যাচাইয়ের সুযোগ সীমিত থাকে। এ কারণে বিধি অনুযায়ী সামান্য ত্রুটিও ক্ষমার সুযোগ নেই। ফলে শিক্ষকদের ব্যালট পূরণের আগে নির্দেশিকা ভালোভাবে পড়ে নেওয়া এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে ভোট প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি।



