শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফেরানো, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতনমুক্ত শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলতে কঠোর নতুন আইন কার্যকর করতে যাচ্ছে সরকার। এই আইনের আওতায় শারীরিক শাস্তি, মানসিক নিপীড়ন, অসদাচরণ কিংবা আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সরাসরি চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন।
নতুন আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক শাস্তি প্রয়োগ বা মানসিক চাপ সৃষ্টি করলে তা গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। এমন অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যার মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত, পদাবনতি এমনকি চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে অপসারণের বিধানও রাখা হয়েছে।
আইনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীর কল্যাণের নামে কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন বরদাশত করা হবে না। শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যুক্তিসংগত নির্দেশনা দেওয়া গেলেও তার সীমা অতিক্রম করলেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে শিক্ষককে শোকজ নোটিশ ছাড়াই সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতাও কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে।
শুধু শিক্ষক নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অনিয়ম, দুর্নীতি বা অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে আইনে। সরকার প্রয়োজনে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা পরিচালনা কমিটি বাতিল করে নতুন করে নিয়োগ দিতে পারবে। অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেকোনো সময় বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতাও থাকছে।
এছাড়া বুলিং, র্যাগিং কিংবা সাইবার বুলিংয়ের ঘটনায় দায়িত্বহীনতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তি ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আসছিল। নতুন এই আইন কার্যকর হলে শিক্ষকদের জবাবদিহি বাড়বে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার সুরক্ষিত হবে। আইন প্রয়োগে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তারা জানিয়েছেন।
তবে শিক্ষক সংগঠনের একটি অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছে, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায্য তদন্ত নিশ্চিত না হলে হয়রানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তারা বলছেন, অপরাধী শিক্ষককে শাস্তি দেওয়া হোক, তবে নির্দোষ কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করাই এই আইনের মূল লক্ষ্য। নতুন আইনের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিই বাস্তবায়ন করা হবে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন