ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

নতুন পে-স্কেলে যেসব ভাতা বাড়বে না এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাটেনি। মূল বেতন বাড়ার সম্ভাবনার কথা বলা হলেও নতুন পে স্কেলে তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে রয়েছে বড় ধরনের শঙ্কা। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে সমতা না রেখে বেশ ভাতা থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বঞ্চিত করা হতে পারে। 

অর্থ মন্ত্রণালয় ও পে কমিশনের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, সরকারের বেতন কাঠামোর আওতায় যারা বেতন পান, নতুন পে স্কেল অনুমোদিত হলে তাদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকারি চাকরিজীবীর মতো সরাসরি বেতন পান না, বরং অনুদান হিসেবে বেতন পান। তাই নতুন পে স্কেলে তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা সীমিত থাকছে।

মূল বেতন ও ভাতা বৃদ্ধি

শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নবম পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। মূল বেতন বাড়লে বৈশাখী এবং উৎসব ভাতাও বৃদ্ধি পাবে।

ভাতার ক্ষেত্রে বৈষম্য

তবে ভাতা সংক্রান্ত ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বঞ্চিত থাকবেন:

বাড়িভাড়া: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের ১৫ শতাংশ। সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে এটি ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত।

চিকিৎসা ভাতা: বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেলে ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।

টিফিন ভাতা: সরকারি চাকরিজীবীরা এক হাজার টাকা টিফিন ভাতা পাবেন; এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা কোন টিফিন ভাতা পান না।

বিনোদন ভাতা: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য কোনো বিনোদন ভাতা নেই। সরকারি কর্মচারীরা প্রতি বছর মূল বেতনের সমপরিমাণ বিনোদন ভাতা পান।

শিক্ষা ভাতা: সরকারি চাকরিজীবীদের দুই সন্তানের জন্য প্রতি মাসে এক হাজার টাকা শিক্ষা ভাতা দেওয়া হয়, যা দুই হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সন্তানদের জন্য কোনো শিক্ষা ভাতা নেই।

অধিকাংশ এমপিওভুক্ত শিক্ষক মনে করছেন, তারা সরকারী দায়িত্ব পালন করলেও নতুন পে স্কেলে ভাতা ও সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্য থাকলে তা তাদের জন্য হতাশাজনক হবে।