পবিত্র মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ানো হবে কি না এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
জানা গেছে, সব মাদরাসায় রমজান উপলক্ষে দীর্ঘ ৪৬ দিনের ছুটি শুরু হচ্ছে। অথচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ রমজানের ছুটি না থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় ছুটির দাবিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) আবেদন করেন শিক্ষক প্রতিনিধিরা। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অধিদপ্তর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘আমরা এখনো সেই চিঠি হাতে পাইনি। চিঠি পাওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবার হওয়ায় টানা চার দিনের ছুটি থাকবে। ফলে ১৫ ফেব্রুয়ারির আগে রমজানের ছুটি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। হাতে সময় খুবই কম থাকায় ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
মাউশি অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের পক্ষ থেকে করা আবেদনটি আমরা গত পরশু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। আবেদনকারীকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে মন্ত্রণালয়ের হাতে।’
তিনি আরও বলেন, যেহেতু বিষয়টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট, তাই মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি শাখা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে আমরা আশাবাদী। বিগত বছরগুলোতে এক-দুই দিন রমজানে ক্লাস চলার পর যানজটসহ নানা সমস্যার কারণে নির্বাহী আদেশে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এবার আগেই আবেদন করা হয়েছে, তাই আমার মনে হয় সিদ্ধান্ত ইতিবাচকই আসবে।
জানা গেছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের পক্ষে সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী এই আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা বার্ষিক ছুটির তালিকায় পবিত্র মাহে রমজান চলাকালে ৫ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ১৫ দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, রোজা রেখে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। সারা দিন রোজা পালনের পর রাতে তারাবির নামাজ আদায় করাও শারীরিকভাবে কঠিন হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া মার্চের ১৩, ১৪, ২০ ও ২১ তারিখ, মে মাসের ২৯ ও ৩০ তারিখ এবং ডিসেম্বরের ২৫ ও ২৬ তারিখসহ মোট আট দিনের সাপ্তাহিক ছুটিকে বার্ষিক ছুটির সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
সব মিলিয়ে রমজানের ছুটি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন