এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ভাতা পেতে দীর্ঘদিন অপেক্ষার অবসান ঘটাতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেবা প্রক্রিয়া সহজ করতে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টকে একীভূত করা এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রেুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক কনসালটেশন কমিটির খসড়া প্রতিবেদনে এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং অবসর সুবিধা বোর্ড।
বর্তমানে কল্যাণ ট্রাস্টে প্রায় ৪৪ হাজার এবং অবসর বোর্ডে প্রায় ৭৫ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে, অর্থাৎ এক লাখের বেশি আবেদন ঝুলে আছে।
একজন শিক্ষক অবসরের পর আবেদন করলে অবসর সুবিধার অর্থ পেতে প্রায় চার বছর এবং কল্যাণ ভাতা পেতে প্রায় তিন বছর সময় লাগছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘসূত্রতার কারণ হিসেবে জনবল ও বাজেট ঘাটতি, তথ্যগত অসংগতি, এনআইডি ও তালিকাভুক্তি সমস্যাসহ ব্যাংক হিসাব নিষ্ক্রিয় থাকার মতো কারিগরি জটিলতার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে।
বর্তমান ব্যবস্থায় একই শিক্ষককে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার জন্য পৃথক দুটি সংস্থায় আলাদা আবেদন করতে হয়, যা প্রক্রিয়াকে জটিল ও সময়সাপেক্ষ করে তুলেছে।
খসড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অবসর’ ও ‘কল্যাণ’ সুবিধার জন্য পৃথক দুটি সংস্থা রাখার যৌক্তিকতা নেই। ফলে দুটি সংস্থাকে একীভূত করে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ডিজিটাল ডেটাবেজ, অনলাইন আবেদন ও স্বয়ংক্রিয় যাচাই ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে সেবা প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে এবং অবসর ও কল্যাণ ভাতা প্রাপ্তি আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন