মার্চ মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সুখবর। ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গে বকেয়া বিলসহ একাধিক বেতন-ভাতা একসঙ্গে পাবেন তারা। ইতিমধ্যেই ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) যেকোনো সময় বেতনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেল সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের প্রায় ১৯ হাজার এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজ থেকে অনলাইনে বেতন বিল দাখিলের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ছাড়াও যেসব বকেয়া বিল রয়েছে, সেগুলো একত্রিত করে সমন্বিত প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।
একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বেতন বিলের তথ্য প্রস্তুত। যাচাই-বাছাই প্রায় শেষ। খুব দ্রুতই তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথমে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অনলাইনে বেতন বিল দাখিল করেন। এরপর তা যাচাই করে মাউশি অধিদপ্তর থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বাজেট শাখায় পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর প্রস্তাব যায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে এজি অফিসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি বেতন-ভাতা পাঠানো হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় একাধিক দপ্তরের সমন্বয় প্রয়োজন হওয়ায় সময়সাপেক্ষ হলেও ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে আগের তুলনায় কাজের গতি বেড়ে গেছে।
সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত ও স্বচ্ছভাবে প্রদানের জন্য ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদন প্রক্রিয়া চালু করেছে। ইএমআইএসের মাধ্যমে অনলাইনে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই হওয়ায় কাগজপত্রের জটিলতা কমেছে এবং ভুলত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে বেতন প্রক্রিয়াকরণ আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়েছে। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের ভোগান্তিও আগের তুলনায় কমেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে মার্চেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনসহ বকেয়া বিল ও অন্যান্য ভাতা একসঙ্গে পাবেন।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন