শিক্ষক প্রশিক্ষণের জটিলতা দূর করতে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনে একাধিক শিফটে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে স্বল্প সময়ে সকল শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে।
মন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, জাতীয়করণকৃত ৫০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট পরিকল্পনা এবং আগামী পাঁচ বছরের শিক্ষা উন্নয়ন কৌশল নিয়েও বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন।
নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা এবং সবার জন্য কারিগরি শিক্ষার মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ উদ্যোগ চালুর কথাও জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও কেডস বিতরণ, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষাঋণ সুবিধা এবং কুরআনের হাফেজদের সম্মাননা প্রদানের বিষয়েও জোর দেন মন্ত্রী।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও কেডস বিতরণ করা হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিকের সব শিক্ষার্থীর জন্য এই সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে এক বছরের মধ্যে প্রাথমিক, কারিগরি, মাদরাসা এবং স্কুল-কলেজ পর্যায়ের সব শিক্ষকের হাতে ট্যাব সরবরাহের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহিদদের সন্তান এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ‘জুলাই শিক্ষার্থী যোদ্ধা’দের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে উপজেলা পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজন এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও বিতর্ক ক্লাব গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
মন্ত্রী সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই উদ্যোগগুলো দেশের মানুষের কল্যাণ এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন