দেশব্যাপী আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে রাজধানীর সেন্ট জোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি দল। এই কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ দলটির সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বিশেষ পুরস্কার গ্রহণ করেন।
চ্যাম্পিয়ন দলের কৃতি শিক্ষার্থীরা হলেন মো. মাহিব আল মামুন, ফারহিন রহমান ও আরহান মনোয়ার খান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইডিপি) আওতায় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়িত এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ইইএসএস) এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। দেশজুড়ে উপজেলা, জেলা, মহানগর ও জাতীয়—এই চার ধাপে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও বৈজ্ঞানিক দক্ষতা যাচাই করা হয়।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৫২১টি উপজেলা ও মহানগরীর শিক্ষা থানা থেকে ৮ হাজার ২৯টি দল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এতে ২৭ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী এবং ১৬ হাজার ৫৮ জন শিক্ষক তাদের বিজ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করেন।
প্রাথমিক বাছাই শেষে উপজেলা পর্যায় থেকে নির্বাচিত ৫৪৬টি দল জেলা পর্যায়ে অংশ নেয়। পরে সেখান থেকে নির্বাচিত ১০০টি সেরা দল নিয়ে ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতার প্রতিটি ধাপেই অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে সেন্ট জোসেফের প্রতিনিধি দলটি দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
উদ্ভাবনী প্রকল্পের বিশেষত্ব
চ্যাম্পিয়ন প্রকল্পে একটি সাশ্রয়ী এআই-চালিত স্বাস্থ্যসেবা ইকোসিস্টেম উপস্থাপন করা হয়েছে, যার মূল উপাদান হলো ESP32-সমন্বিত স্ট্রোক রিহ্যাবিলিটেশন স্মার্ট গ্লাভ এবং অ্যাডাপ্টিভ ভয়েস ও জেসচার-নিয়ন্ত্রিত বায়োনিক আর্ম।
স্মার্ট গ্লাভটি রোগীর অনুশীলনের তথ্য রিয়েল-টাইমে একটি কেন্দ্রীয় ওয়েব প্ল্যাটফর্মে পাঠায়। এর মাধ্যমে চিকিৎসকেরা দূর থেকেই রোগীর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী থেরাপির নির্দেশনা পরিবর্তন করতে পারবেন। ফলে রোগীকে বারবার হাসপাতালে যেতে হবে না এবং টেলিহেলথ সেবার মাধ্যমে চিকিৎসা আরও সহজ হবে।
এ ছাড়া প্রকল্পটিতে একটি স্মার্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিউমেটিক প্রেসার বা বায়ুচাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। অন্যদিকে, মেশিন লার্নিং-ভিত্তিক বায়োনিক আর্ম রোগীর স্বাভাবিক নড়াচড়ার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক পুনর্বাসন সেবা প্রদান করে।
উদ্ভাবকদের মতে, স্বল্পমূল্যের আইওটি হার্ডওয়্যার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অভিযোজিত রোবোটিক্সের সমন্বয়ে তৈরি এই প্রযুক্তি হাসপাতালের ওপর নির্ভরতা কমাবে, দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ব্যয় হ্রাস করবে এবং রোগীদের নিজ বাসায় থেকেই কার্যকর চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করবে।
এই সাফল্যে সেন্ট জোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্ভাবনী গবেষণা দেশের তরুণদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী করে তুলবে এবং আধুনিক, স্মার্ট ও মানবকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন