ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

জাককানইবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

আর মাত্র একদিন পেরোলেই বাঙালি জাতির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। আর এই পহেলা বৈশাখ ঘিরে বাঙালিরা নানান রকম জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করে। তেমনিভাবেই ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ বরণের আনন্দ শোভাযাত্রার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি গ্রহণে ব্যস্ত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) চারুকলা অনুষদ। সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক ব্যস্ত পটের ছবি আঁকতে। কেউ ব্যস্ত মুখোশে তুলির আঁচড় দিতে, কেউ এঁকে দিচ্ছেন রঙিন রেখা। কেউ কেউ আবার জলছবি, মুখোশ পেইন্টিং-এ ব্যস্ত।

রোবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ ঘুরে এমন চিত্রই দেখা যায়।

চারুকলা অনুষদের পুরো ভবনটাই যেন কর্মমুখর হয়ে উঠেছে পহেলা বৈশাখকে ঘিরে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে কাজ করছেন। কোনো দল মুখোশ আঁকাচ্ছে, কোনো দল বিভিন্ন অবয়ব তৈরি করছে, কোনো দল আবার বড় মোটিফ বানাতে ব্যস্ত।

চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী ফাহমিদা রিমঝিম বলেন, এ বছর তো সময় কম। এই কম সময়ের মধ্যেও আমরা যতটা ভালো করা সম্ভব, সেই প্রস্তুতিই নিচ্ছি। আমাদের কাজও মোটামুটি শেষের দিকেই। এবার আনন্দ শোভাযাত্রার জন্য স্ট্রাকচারের কাজ করা হচ্ছে। এ ছাড়া মুখোশ, পেঁচা, পাখি, বাঘ, পালকি, আমাদের বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি। তো আশা করছি, ভালোভাবেই শেষ করতে পারব সবকিছু।

চারুকলা অনুষদের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. তপন কুমার সরকার বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও জাককানইবি চারুকলা অনুষদ বৈশাখকে বরণ করতে নানা আয়োজন করছে। আমাদের কার্যক্রম প্রায় শেষের পথে। যদিও কাজ আগের রাত পর্যন্ত চলবে। তবুও আমরা প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করে ফেলেছি। বৈশাখের শোভাযাত্রার যেই মূল লক্ষ্য থাকে, বাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরা, সেই লক্ষ্যেই এবারও আমরা কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, এবারের আমাদের মূল মোটিফ হলো পায়রা, শান্তির প্রতীক। বর্তমান বিশ্বে যেই যুদ্ধাবস্থা বিদ্যমান, আমরা চাই এসব যুদ্ধ দ্রুতই বন্ধ হোক এবং পৃথিবীতে শান্তি নেমে আসুক। এ ছাড়াও রয়েছে বাঘ, চরকি, বিভিন্ন পাখি, মুখোশ ও অন্যান্য বিভিন্ন অবয়ব যেগুলো বাঙালি ঐতিহ্যকে তুলে ধরবে। আর গতবছরের তুলনায় এবার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও অনেক বেশি। তাই, কাজ করে আনন্দ পাচ্ছি।