গতকাল (শনিবার) রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এক নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীর সংঘর্ষের ঘটনা ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রোববার (৩১ আগস্ট) সকাল থেকে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে বারবার সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
ঘটনার পরিসর:
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটের কাছে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। শনিবার রাতে তিনি দেরিতে বাসায় ফিরলে দারোয়ানের সঙ্গে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে দারোয়ান শিক্ষার্থীর ওপর চড়াও হন। ২ নম্বর গেটে থাকা শিক্ষার্থীরা দারোয়ানকে ধরতে গেলে তিনি পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।
শিক্ষার্থীরাও সোহরাওয়ার্দী হলের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে জড়ো হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, ‘আমি সময়মতো বাসায় ফিরেছিলাম। দরজা খোলার জন্য দারোয়ানকে অনুরোধ করলে তিনি অকথ্য ভাষায় কথা বলেন এবং হঠাৎ চড় মারেন। আমার রুমমেটরা নামলে আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। আমি আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে।’
আহত ও চিকিৎসা
চবি মেডিকেলের ডা. মুহাম্মদ টিপু সুলতান জানান, বহু শিক্ষার্থী আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পরীক্ষা স্থগিত, ক্লাস চলবে
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সব বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত করেছে। তবে ক্লাসসমূহ চলবে। সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য শাটল ট্রেন নিয়মিত চলবে।
প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ জানান, আটক শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করা হয়েছে। ভিসি অফিসে মিটিং চলছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বার ও ডিজিএফআই, এনএসআই-এর সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংঘর্ষ ও উত্তেজনা
আজ রোববার দুপুর ১২টার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটসংলগ্ন জোবরা গ্রামে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে।
১৪৪ ধারা জারি
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন ১৪৪ ধারার আদেশ জারি করেন।
আদেশে বলা হয়েছে, চবি এলাকার ২ নম্বর গেট বাজার থেকে পূর্বদিকের রেলগেট পর্যন্ত রাস্তার উভয়পাশে আজ দুপুর ২টা থেকে আগামীকাল রাত ১২টা পর্যন্ত কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ, গণজমায়েত, আগ্নেয়াস্ত্র বা দেশি অস্ত্র বহন, পাঁচ জন বা ততোধিক ব্যক্তির অবস্থান ও চলাচল নিষিদ্ধ করা হলো।