খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক ও স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) শুরু হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই পরীক্ষা ৪টি ইউনিটে ১ হাজার ১০৯টি আসনের জন্য মোট ১ লাখ ৮ হাজার ২৬৬ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। প্রতি আসনে গড়ে ৯৭ জন শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা গত বছরের তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রথম দিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ‘ডি’ ইউনিটের (ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুল) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সময়ে ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা খুলনা ও ঢাকার কেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হচ্ছে, যেখানে ৩ হাজার ৬০৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। বিকালে অনুষ্ঠিত ‘সি’ ইউনিটের (কলা ও মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন, শিক্ষা ও চারুকলা স্কুল) পরীক্ষায় চারটি কেন্দ্র—খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে ৩৬ হাজার ৭৩৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।
পরবর্তী দিন শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ‘এ’ ইউনিটের (বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুল) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে স্থাপত্য স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ড্রইং পরীক্ষা’ নেওয়া হবে। এই ইউনিটের পরীক্ষা চারটি কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৮ হাজার ৯৬১। বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ‘বি’ ইউনিটের (জীববিজ্ঞান স্কুল) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ২৮ হাজার ৯৬৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সংখ্যা ও আসনের অনুপাত প্রতিযোগিতামূলক। প্রতি আসনে গড়ে ৯৭ জন শিক্ষার্থীর লড়াই এ পরীক্ষাকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তুলনায় কড়া প্রতিযোগিতামূলক করেছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা ইউনিটে প্রতি আসনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সর্বোচ্চ, যা এই বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহের প্রমাণ দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও কঠোর প্রতিযোগিতা, পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কেবল শিক্ষার্থীদের জ্ঞান যাচাইয়ের মাধ্যম নয়, বরং প্রতিযোগিতা, পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলার পরীক্ষাও বটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম প্রমাণ করে যে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন যথাযথভাবে তৎপর।

