ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে দুই বন্ধুর ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষে আহত দুজনের মধ্যে মীর হামিদুরের মাথায় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও তিনি আশঙ্কামুক্ত নন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, মাথার পেছনের দিকে আঘাত পাওয়ায় মীর হামিদুরের অবস্থা গুরুতর হয়ে ওঠে। পরে আজ তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। মুয়াজ ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
এর আগে একই দিন সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী সাত দিনের জন্য সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই দিন দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল আলম খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. সেহেলী জান্নাত সুলতানাকে সভাপতি করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ডা. শামীমুল মাসুদ আহমেদ এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল হক।
পুলিশ ও মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর বাঘমারা এলাকায় অবস্থিত ছাত্রাবাসে শনিবার রাতে মুয়াজ তার বন্ধু হামিদুরের কক্ষে গিয়ে মোটরসাইকেলে তেল ভরা নিয়ে প্রথমে কথা-কাটাকাটিতে জড়ান। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় হামিদুর ও তার সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরে হামিদুর চা খেতে বাইরে গেলে স্টিলের পাইপ দিয়ে পেছন থেকে মাথায় আঘাত করে মুয়াজ।
এ ঘটনায় হামিদুরের পক্ষের সদস্যরা মুয়াজকে ধাওয়া করলে তিনি একটি কক্ষে ঢুকে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে পুলিশ ছাত্রাবাসে যায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত মুয়াজকে আটক করে।
আটকের পর দু’জন পুলিশ সদস্য মুয়াজকে ছাত্রাবাস থেকে বের করে আনছিলেন। এ সময় পুলিশের সামনেই আক্রমণের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে পুলিশ তাকে হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মুয়াজ কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের কর্মী এবং মীর হামিদুর কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপ গ্রুপের কর্মী।
তবে কলেজের ৬১ ব্যাচের শিক্ষার্থী যুবরাজ মো. শাদাত শাহরিয়ার বলেন, এটি রাজনৈতিক বিষয় নয়; দুইজনের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, এ ঘটনায় নাফিউল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজমুল আলম খান বলেন, মোটরসাইকেলে তেল ভরার মতো ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী মুয়াজ ও মীর হামিদুর আহত হয়েছেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মীর হামিদুরের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা কিছুটা উন্নতি হয়েছে। মুয়াজ ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাঁর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাত দিনের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবাস ছেড়ে গেছেন। তিনজন অধ্যাপককে দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন