ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

প্রধান শিক্ষকরা বেতন পাবেন সাড়ে ৩৮ হাজার টাকা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫, ০৮:২৭ পিএম
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের লোগো। ছবি- সংগৃহীত

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন কাঠামোয় পরিবর্তন এসেছে। তাদের বর্তমান ১১তম গ্রেডের পরিবর্তে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী এত দিন প্রধান শিক্ষকেরা ১১তম গ্রেডে বেতন পেতেন।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা এখন থেকে ১০ম গ্রেডের গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদায় বেতন-ভাতা পাবেন। এ গ্রেডে বেতন স্কেল নির্ধারিত হয়েছে ১৬ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা পর্যন্ত।

এর আগে ১১তম গ্রেডে প্রধান শিক্ষকদের বেতন শুরু হতো ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে, যা সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ২৩০ টাকায় গিয়ে শেষ হতো। নতুন প্রজ্ঞাপন জারির ফলে তাদের মূল বেতনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এলো।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে এ আদেশ জারি করা হয়েছে এবং প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকেই এটি কার্যকর হবে।

জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৬৫ হাজার ৫০২ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন গ্রেড উন্নীত করতে এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ সম্মতি দেয়।

পাশাপাশি প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির অনুমোদনও পাওয়া যায়। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ১৫ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপনে সই করা হয়, যা মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই সর্বোচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড ও দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদা দেওয়ার দাবি ছিল। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ২৮ অক্টোবর রিটকারী ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন গ্রেড এক ধাপ বাড়ানো হয়। এরপর ধাপে ধাপে সব প্রধান শিক্ষকের বেতন গ্রেড উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন হলো এবার।

এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা বর্তমানে জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন, যেখানে শুরুর মূল বেতন ১১ হাজার টাকা। তারা বেতন গ্রেড ১১তম করাসহ একাধিক দাবি জানিয়ে আসছেন।

সরকারি অবস্থান অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নীত করার প্রস্তাব ইতোমধ্যে জাতীয় বেতন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পর অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

বর্তমানে সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে এক কোটির বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক সংখ্যা প্রায় পৌনে চার লাখ। সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২১৬টি, যার মধ্যে কর্মরত আছেন ৩ লাখ ৫২ হাজার ২০৮ জন।