শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল ও কলেজের ম্যানেজিং কমিটিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সদস্য হওয়ার সুযোগ বন্ধ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ম্যানেজিং কমিটিতে শুধু সরকারি কর্মকর্তা বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা থাকবেন।
চলতি সপ্তাহে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ম্যানেজিং কমিটিতে রাজনৈতিক নেতা বা ব্যক্তি থাকার কারণে শিক্ষার পরিবেশে নানারকম সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। তাই রাজনৈতিক ব্যক্তিদের এই পদে অন্তর্ভুক্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন সরকারের কাছে ১৮টি সংস্কার প্রস্তাব দাখিল করেছিল, যেগুলোর মধ্যে সহজে বাস্তবায়নযোগ্য আটটি প্রস্তাবের মধ্যে কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন-সংক্রান্ত নীতিমালাটিকে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, রাজনৈতিক ব্যক্তির পরিবর্তে সরকারি কর্মকর্তা বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ প্রস্তাবটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। মন্ত্রণালয় ভেটিং সম্পন্ন করে ফেরত পাঠালে তা প্রকাশ্যে জারি করা হবে। এরপর এক মাসের মধ্যে সব স্কুল ও কলেজে ম্যানেজিং কমিটি পুনর্গঠন সম্পন্ন করতে হবে।
এক কর্মকর্তা বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ম্যানেজিং কমিটিতে থাকায় নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। নতুন নিয়মে সরকারি কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।
নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ম্যানেজিং কমিটি সম্পূর্ণ পেশাদার ও শিক্ষার উন্নয়নে মনোযোগী সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত হবে, যা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।


