সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি এবং শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। সরকারপ্রধানের এমন ঘোষণার পর থেকে ক্ষোভে ফুঁসছে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। তাদের সবার একটাই প্রশ্ন, প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বাড়লে তাদের কেন বাড়বে না?
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারের বিদ্যমান বেতন কাঠামোর আওতায় যারা বেতন পান, নতুন পে-স্কেল অনুমোদিত হলে তাদের সবার বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়বে।
২১ এপ্রিল জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশনের সুপারিশ প্রণয়নে গঠিত কমিটি পুনর্গঠন করে সরকার। সম্প্রতি ওই কমিটি তাদের মতামত জমা দিয়েছে।
জানা গেছে, এই সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আর্থিক চাপ বিবেচনায় রেখে নবম পে-স্কেল একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সূত্র বলছে, প্রথমেই মূল বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এরপর পর্যায়ক্রমে চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা বাড়ানো হতে পারে। তবে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন এলে এটি বাস্তবায়ন হবে।
সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়। এরপর প্রায় ১১ বছর পার হলেও নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার নতুন করে পে-কমিশন গঠন করে এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারা সুপারিশ জমা দেয়। সুপারিশে নতুন বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ করা হয় ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যেখানে অনুপাত হবে ১:৮।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা ভাতাসহ মোট দাঁড়ায় প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা। নতুন স্কেলে একই গ্রেডে মূল বেতন ২০ হাজার টাকায় উন্নীত হলে ভাতাসহ মোট আয় বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে।
১৯তম থেকে ১ম গ্রেড পর্যন্ত সব স্তরেই ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে, তবে ভারসাম্য বজায় রাখতে এই বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সীমিত রাখা হতে পারে। যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা ও ঝুঁকি ভাতার মতো সুবিধাগুলো নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরাও পেয়ে থাকেন এবং এসব ক্ষেত্রেও সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে।
তবে গাড়ি সুবিধা নগদায়নের ভাতা (৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব) এই হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি। ফলে ১ম থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ের সুপারিশ করা হয়েছে।

-20260429114907.webp)

