ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে ধানের শীষের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিন বিদ্রোহী প্রার্থী।
তবে মামলা থেকে বাঁচতে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়েছেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বেক্সিমকো গ্রুপের অংশীদার এবি সিদ্দিকুর রহমান।
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো তিন প্রার্থী হলেন- ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম, জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আল ফাত্তাহ মো. আব্দুল হান্নান খান এবং প্রয়াত সাংসদের পুত্র মো. মুশফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সাইফুর রহমানের বরাবরে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে তারা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন।
এ সময় তারা পৃথক বক্তব্যে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ধানের শীষের প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চুকে সমর্থন দিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম বলেন, আমি দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। আমি ধানের শীষের লোক, এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
অ্যাডভোকেট আল ফাত্তাহ মো. আব্দুল হান্নান খান একই ধরনের বক্তব্যে বলেন, আমি দলের সঙ্গে আছি। তাই আমার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছি।
তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থীতা বহাল রেখেছেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বেক্সিমকো গ্রুপের অংশীদার এবি সিদ্দিকুর রহমান। তিনি পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের ব্যবসায়িক অংশীদার।
ঋণের নামে জনতা ব্যাংক থেকে ১৩৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়ের করা মামলার আসামি তিনি।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বেক্সিমকো গ্রুপের অংশীদার এবি সিদ্দিকুর রহমান মামলা থেকে বাঁচতেই এ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এবি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, যে যাই বলুক, আমি নির্বাচন করব। নির্বাচনে আছি।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা তো হতেই পারে, এটা কোনো সমস্যা না। তাছাড়া আমি বেক্সিমকো গ্রুপের ডিরেক্টর। বেক্সিমকো গ্রুপে আমার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার আছে। আমাকে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশন বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে সেহেতু নির্বাচন করতে আমার কোনো বাধা নেই।
তিনি আরও বলেন, আমার অনুরোধ থাকবে, আপনি মামলা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের বিষয়টি গোপন রাখবেন।


