ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টি পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থীরা। তবে চমক জাগানো বিষয় হলো রাউজান রাঙ্গুনিয়াসহ তিনটি আসনে বিজয়ী তিনজনের বাড়ি রাউজান উপজেলার একই গ্রাম গহিরাতে। চাচা-ভাতিজাসহ এক গ্রামের তিন বাসিন্দার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় ফল ঘোষণার পর থেকেই গ্রামটিতে বইছে উৎসবের আমেজ।
এবার গহিরা গ্রাম থেকে নির্বাচিত প্রার্থীরা হলেন, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে তার ভাতিজা হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী) আসনে সাঈদ আল নোমান।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী ইলিয়াছ নূরী পেয়েছেন ২৭ হাজার ১৪৬ ভোট। এ ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহাজাহান মঞ্জু পেয়েছেন ২২ হাজার ১১৮ ভোট।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে হুম্মাম কাদের চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ২৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৪৮৫ ভোট। হুম্মাম কাদের চৌধুরী যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে জয়লাভ করেছেন সাঈদ আল নোমান। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৩৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪০৭ ভোট। সাঈদ আল নোমান প্রয়াত মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে।
একই গ্রামের তিন প্রার্থীর তিনটি আসনে জয় পাওয়াকে স্থানীয়রা বিরল ঘটনা হিসেবে দেখছেন। ফল ঘোষণার পর থেকেই গহিরা গ্রামে চলছে মিষ্টি বিতরণ, আনন্দ ও শুভেচ্ছা বিনিময়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে তিনজন সংসদ সদস্য পাওয়ায় গ্রামবাসীর প্রত্যাশা- এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে।


