বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে প্রবাসী আয়ের ভূমিকা কতটা গভীর ও নির্ভরযোগ্য—তা নতুন করে তুলে ধরেছে সাউথ এরা নেটওয়ার্ক-এর ডকুমেন্টারি সিরিজ ‘বিটুইন টু ফিউচার্স’-এর অষ্টম পর্ব। ‘এপিসোড ০৮’-এ জুলাই অভ্যুত্থান ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের মধ্যবর্তী ঐতিহাসিক ১৮ মাসে দেশের অর্থনীতি কীভাবে রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে টিকে ছিল, তার বিশদ চিত্র উঠে এসেছে।
ডকুমেন্টারিতে দেখানো হয়েছে, দীর্ঘদিনের শাসনামলের অবসানের পরপরই রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। ২০২৪ সালে প্রবাসী আয় দাঁড়ায় ২৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অর্থনৈতিক সংকটের সময় এই রেমিট্যান্সই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য কার্যত লাইফলাইন হিসেবে কাজ করে।
তবে এই সাফল্যের আড়ালে প্রবাসী শ্রমিকদের বঞ্চনার চিত্রও তুলে ধরেছে এপিসোডটি। ডকুমেন্টারিতে বলা হয়, আগের শাসনামলে রেমিট্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা অভিবাসী শ্রমিকরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো আচরণের শিকার হয়েছেন। বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের অমানবিক পরিস্থিতি, আইনি জটিলতা ও অবহেলার উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে এই পর্বে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি প্রায় ভেঙে পড়া অভিবাসন ব্যবস্থার উত্তরাধিকার পায় বলে উল্লেখ করা হয়। মালয়েশিয়ায় আটকে পড়া প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের সংকট সমাধানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে হয়—যা এই সংকটের গভীরতাই নির্দেশ করে।
ডকুমেন্টারির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অভিবাসী শ্রমিকদের রাজনৈতিক অধিকার প্রসঙ্গ। এতদিন রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রধান অবদান রাখলেও তারা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১৫ লাখ ৩০ হাজার প্রবাসী নাগরিক পোস্টাল ভোটিংয়ের জন্য নিবন্ধন করেন।
‘বিটুইন টু ফিউচার্স: এপিসোড ০৮’ রেমিট্যান্সকে শুধু অর্থনৈতিক অবদান হিসেবে নয়, বরং প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা, সম্মান ও অংশগ্রহণকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে এই ডকুমেন্টারি।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন