প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের এক মামলায় চিত্রনায়িকা রুবিনা আক্তার নিঝুম, তার স্বামী মামূনুর রশীদ রাহুল, রাহুলের ভাই নান্নু মিঞা ও বোন মহিমা বিবির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এ পরোয়ানা জারি করেন।
সুরভী বেগম নামের এক নারী গত ২৯ জানুয়ারি এই মামলা দায়ের করেন। আদালত সেদিন আসামিদের ১৯ ফেব্রুয়ারি হাজির হতে সমন জারি করে।
তবে অভিযোগকারীকে চিনেন না বলে কাতার থেকে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে নিঝুম রুবিনা বলেন, এই ঘটনার ব্যাপারে আমি অবগত নই। যিনি মামলা করেছেন, তাকে আমি চিনি না। বিষয়টি যখন আদালতে গড়িয়েছে, তখন জানতে পারি আমার স্বামী তার খালাতো ভাইকে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে টাকা এনে দিয়েছিল। এরই মধ্যে অর্ধেকের বেশি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি টাকা নির্ধারিত সময়ে দেওয়া হবে। তার আগেই তারা মামলা করেছেন। তবে স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। অযথা আমার নাম টেনে কাভারেজ নেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিক ভাই-বোনদের বলব, আপনারা বিষয়টি যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করবেন।
নিঝুমের স্বামী রাহুল বলেন, খালাতো ভাইকে টাকা ধার নিয়ে দিয়েছিলাম। এরই মধ্যে অর্ধেকের বেশি টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা নির্ধারিত সময়ে দেওয়া হবে। তবে ওই মহিলা এখন অতিরিক্ত টাকা দাবি করছেন। আমার খালাতো ভাইয়ের কাছে এখন শুধু সাড়ে ৪ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। তবে নিঝুম এই ব্যাপারে অবগত নয়। তাকে অযথা টানা হচ্ছে সম্মানহানি করার জন্য।
মামলায় বলা হয়েছে, সুরভী বেগম ও রুবিনা নিঝুম পূর্বপরিচিত। রুবিনা ও রাহুল বিভিন্ন সময়ে সুরভীর কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে যথাসময়ে ফেরত দিয়ে আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেন। সেই সূত্রে ২০২০ সালের ১ অক্টোবর রুবিনা ও রাহুল সুরভীর কাছ থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ধার চান। ১১ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দফায় সুরভী তাদের সাড়ে ১২ লাখ টাকা দেন। দুই মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে তাদের মধ্যে একটি চুক্তিনামা সম্পাদিত হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, রাহুল টাকা ফেরত না দিলে বা মারা গেলে তার ভাই নান্নু টাকা পরিশোধ করবেন।
পরে সুরভী বেগম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার আর্থিক অস্বচ্ছলতা দেখা দেয়। জরুরি ভিত্তিতে টাকার প্রয়োজন হওয়ায় গত বছরের ১ মে তিনি টাকা ফেরত চান। তবে রুবিনা ও রাহুল টাকা ফেরত দেবেন না বলে জানিয়ে দেন। ২২ সেপ্টেম্বর রুবিনা ও রাহুলের রামপুরার বনশ্রী বাসায় গিয়ে সুরভী আবার টাকা ফেরত চান। অভিযোগ রয়েছে, তারা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করে সুরভীকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান। এ ঘটনায় সুরভী রামপুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন