ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

স্মৃতিতে পাগল হাসান

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

বাউল শিল্পী মতিউর রহমান, ওরফে পাগল হাসানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। গত বছরের এই দিনে গান গেয়ে বাড়ি ফেরার পথে সুনামগঞ্জের ছাতক পৌর শহরের সুরমা সেতুর কাছে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন এই শিল্পী।

অকালপ্রয়াত এই শিল্পীকে স্মরণ করে তার সহকর্মী ও স্বজনরা ‘স্মৃতিতে পাগল হাসান’ শিরোনামে একটি বিশেষ আয়োজন করেছেন। রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় বসবাসরত তার বন্ধু শিল্পী, সংগীত পরিচালক, প্রযোজক ও ভক্তরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন পাগল হাসানের ছেলে জিহানও। তিনি বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

‘স্মৃতিতে পাগল হাসান’ আয়োজন প্রসঙ্গে এ আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা সংগীতশিল্পী জুয়েল মোর্শেদ বলেন, বন্ধুদের উদ্যোগেই এ আয়োজন করা হয়েছে। প্রতি বছর আমরা তার জন্মদিনে স্মরণে একটি উৎসব আয়োজন করতে চাই। গত বছরও তার গ্রামের বাড়িতে পাগল হাসান চত্বরের পাশের মাঠে আমরা অনুষ্ঠান করেছিলাম। সেখানে আসিফ আকবর, পারভেজ ও কিশোর পলাশ গান পরিবেশন করেছিলেন।

কণ্ঠশিল্পী লায়লা বলেন, আমাকে প্রথম সিলেটে গান গাওয়ার জন্য পাগল হাসানই নিয়ে গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের সময় অনেক কথা বলেছিলেন, যা এখনো মনে পড়ে। তিনি অসাধারণ গান করতেন। কিন্তু যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার আক্ষেপও করেছিলেন।

ধ্রুব গুহ বলেন, এমন একজন প্রতিভাবান শিল্পী অকালেই ঝরে গেছেন। আমাদের একসঙ্গে একটি গান করার সুযোগ হয়েছিল। তার শিল্পকর্ম আমাদের ভাবায় এবং স্পর্শ করে। এই অনুভূতি নিয়েই আমরা বেঁচে থাকতে চাই। পাগল হাসান আমাদের মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকুক।

কাজী শুভ বলেন, পাগল হাসান যেমন সুন্দর লিখতেন, তেমনই গাইতেন। মৃত্যুর পরই মানুষের কদর বাড়ে আমরা জীবিত থাকতে তার মূল্য বুঝিনি। তিনি তার কর্মগুণে বেঁচে থাকুন।

জানা গেছে, বন্ধুদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ‘পাগল হাসান ট্রাস্ট প্ল্যান’-এর মাধ্যমে তার স্মরণে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে উপদেষ্টা হিসেবে আছেন আসিফ আকবর, ধ্রুব গুহসহ আরও অনেকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন কিশোর পলাশ, রাজিব হোসেন, সুমন কল্যাণ, জুয়েল মোর্শেদ প্রমুখ। জন্মদিন উপলক্ষে আগামী ২ জুন পাগল হাসানকে স্মরণ করে একটি বিশেষ উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনাও করছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের কর্ণধার ও সংগীতশিল্পী ধ্রুব গুহ, লুৎফর হাসান, এফ এ সুমন, কিশোর পলাশ, গামছা পলাশ, সুমন কল্যাণ, কণ্ঠশিল্পী লাভলী দেব, লায়লা, সংগীতশিল্পী জুয়েল মোর্শেদ, কাজী শুভ, শেখ সাদী খান, জিসান খান শুভ, পরিচালক মাহিন খান, রাশিদ পলাশ, গীতিকার সোহাগ ওজিউল্লাহ, এস আই শরীফ, তরুণ মুন্সি, ইশরাত জাহান জুঁই, জামিল খ্যাপা প্রমুখ। ঢাকা ছাড়াও সুনামগঞ্জের ছাতকে তার নিজ গ্রামে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

পাগল হাসানের জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘আসমানে যাইও না রে বন্ধু ধরতে পারব না’, ‘জীবন খাতায় প্রেমকলঙ্কের দাগ দাগাইয়া’, ‘দুই দিনের সংসারী আর মিছা দুনিয়াদারি’, ‘কইরো ঘৃণা যায়-আসে না’, ‘জানতাম যদি তোমার পিরিত কচুপাতার পানি’সহ আরও অসংখ্য গান। তিনি একজন শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মাত্র ৩৩ বছরের জীবনে পাগল হাসান অসংখ্য মরমি গান রচনা করেছেন।