ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

‘আ.লীগের রাজনীতির সঙ্গে কখনোই ছিলাম না’

রুহুল আমিন ভূঁইয়া
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৪, ০২:০৫ এএম
ফজলুর রহমান বাবু। ছবি: সংগৃহীত

আলো আসবেই’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে একজোট হয়েছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিপক্ষে থাকা অভিনয়শিল্পীরা। ওই গ্রুপের মাধ্যমেই তারা একে অপরের সঙ্গে আলাপ করতেন। আন্দোলন দমাতে তারা গ্রুপটি খুলেছেন বলে কথোপকথনে স্পষ্ট। ওই গ্রুপে আছেন অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবুও। এ কারণে সাধারণ মানুষের নিন্দার মুখে পড়েছেন তিনি।

সমালোচনার তোপে নিজের ফেসবুকে অনেকটা কৈফিয়ত দেওয়ার ভঙ্গিতে একটি পোস্ট করেছেন ফজলুর রহমান বাবু। তবে অভিনেতার এমন পোস্ট মন গলাতে পারেনি নেটিজেনদের। তিনি কেন অমন গ্রুপ থেকে বের হয়ে যাননি সেই প্রশ্ন তুলেছেন তারা। কেউ লেখেন, এসব লিখে পার পাওয়া যাবে না। ছাত্র-জনতার ওপর তৎকালীন সরকার নির্যাতন চালানোর সময় এই অভিনেতা কেন চুপ করে ছিলেন, সে প্রশ্নও উঠেছে ফজলুর রহমান বাবুর পোস্টের মন্তব্যের ঘরে।

এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ-কে ফজলুর রহমান বাবু বলেন, ‘সত্যিই আমি গ্রুপে থাকতে চাইনি। আমরা চাইলে একটা মন্তব্য করতে পারি না। অনেক দায়িত্ব নিয়ে কথা বলতে হয়। আমি গ্রুপটি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু সেই অপশন ছিল না। এডমিন ছাড়া কেউ বের করতে পারবে না। অনেক বার চেষ্টা করেও পারিনি। সবচেয়ে বড় কথা সেখানে আমি কিছু লিখিনি।’

যোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া দৃশ্যমাধ্যম শিল্পী সমাজ গ্রুপেও আমি ছিলাম। সেখানেও আমি তেমন কিছু লিখিনি। সবকিছু ফলো করেছি। আমি মামুনুর রশীদের শীর্ষ। মামুন ভাই শিক্ষার্থীদের পক্ষের গ্রুপে ছিল।’

এই অভিনেতা বলেন, ‘দুই গ্রুপের সবাই আমাদের পরিচিত ও সহকর্মী। ঘটনার শুরুর আগে সবার সঙ্গে কথা বলেছি ও কাজ করেছি। পরিবর্তিত অবস্থায় দুটি পক্ষ হয়েছে। আমি চুপ ছিলাম। আবার অনেক মানুষই কনফিউজড ছিল। কোনো সচেতন মানুষই হত্যার পক্ষে না। আমিও না। সত্যি কথা আমরা এক প্রকারের কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেছি।’

উত্তাল পরিস্থিতি নিয়ে বাবু বলেন, ‘এখন খুবই অস্থির সময়। যারা আমাদের নিয়ে বাজে কথা বলে কিংবা লিখে তারা আমাদের ছোট ভাই। কারো কারো আমি বাবার বয়সী। বাবার বয়সী কাউকে যদি কেউ গালিগালাজ করে কিংবা কটু কথা লিখে সেটা খুব খারাপ। আমার বিশ্বাস অচিরেই সব ঠিক হয়ে যাবে। এখন সুস্থ, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রতিক বাংলাদেশ চাই। সেটা আগেও চেয়েছি। এখন যারা গণমাধ্যমে কাজ করছে তারা আগে চাইলেও সব কথা বলতে পারেনি। আমাদের শিল্পীদের আরও বেশি সীমাবদ্ধতা ছিল।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের পর তাকে নিয়ে একটি নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন বলে সম্প্রতি আলোচনায় এসেছেন ফজলুর রহমান বাবু। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কথা আমি কখনো বলিনি। কেউ বলতেও পারবে না। কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য আমি কখনো করিনি। আমার পক্ষে একটি রাজনীতিক দলের প্রধানকে এটা বলা উচিত না। এটা বলতেও পারিনি। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে আমি কখনোই জড়িত ছিলাম না। তাদের কোনো সংঠনের সঙ্গে জড়িত নেই। আমাদের অনেকেই বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট সহ আওয়ামী লীগের নানান জায়গায় জড়িত আছে। কোথাও আমার সংশ্লিষ্টতা ছিল না।’

সেই সঙ্গে যোগ করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ক্ষমতার ১৫ বছরে তাদের কোনো রাজনীতিক কর্মসূচিতে যাইনি। যোগত্য দিয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি। বিএনপিকে নিয়ে আমি কখনোই খারাপ মন্তব্য করিনি। কেউ দেখাতে পারলে যে শাস্তি হবে মেনে নেব। আমিও এ কথা শুনেছি। এটা সম্পূর্ণ বনোয়াট গল্প। আমি এসবের মধ্যে নেই। বাংলাদেশ ছোট দেশ না। আমাদের আত্নীয় স্বজন বিভিন্ন দলের সঙ্গে আছে। এতদিন কথাটি আসেনি এখন কেন আসছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির বড় নেতাদের সঙ্গে দেখা হয়েছে কখনো তো এসব নিয়ে তারা কিছু বলেনি। হঠাৎ করে এটা আবিস্কার করা হয়েছে। আমাদের একটা খারাপ সংস্কৃতি চালু আছে যে, কাউকে অপদস্ত ও লাঞ্চিত করতে পারলেই অনেকে খুশি হয়।’

কয়েক মাস আগেও অভিনয় ঘিরে ফজলুর রহমান বাবুর তুমুল ব্যস্ত থাকলেও এখন নেই ব্যস্ততা। বাসাতেই সময় কাটাচ্ছেন তিনি। তার বেশকিছু কাজ পিছিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন। কিছু কাজ হয়েছে বাতিল। বললেন, ‘যদিও আমি এখন সিনেমার কাজই বেশি করি। সেসব কাজও পিছিয়ে গেছে। সবাই কাজ পিছিয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কাজ করব। অযথা কাউকে হয়রানি ও কটু কথা বলা ঠিক না। যাচাই-বাছাই ছাড়া কিছু বলবেন না দয়া করে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ সিনেমায় খন্দকার মোশতাক চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু। সিনেমাটিতে অভিনয় করে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিনেতা বলেছিলেন, ‘মুজিব আমাদের আবেগ, আমাদের ভালোবাসা। সেই জায়গা থেকেই কাজটা করেছি।’