ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশের ‘মাস্টার’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ৭, ২০২৬, ০১:২৮ এএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

রটারডাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মর্যাদাপূর্ণ ‘বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড’ জয়ের পর এবার অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহ্যবাহী ৭৩তম সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আমন্ত্রিত হয়েছে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের পলিটিক্যাল থ্রিলার ‘মাস্টার’। উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ‘ফিচারস’ বিভাগে ছবিটির অস্ট্রেলিয়ান প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে।

এ বছর সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে আসগর ফারহাদি ও ক্রিস্টিয়ান মুঞ্জিউর মতো বিশ্বখ্যাত নির্মাতাদের ছবির পাশাপাশি বাংলাদেশের এই ছবিটির উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

উৎসবের এই অর্জন নিয়ে পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত বলেন, বাংলাদেশের স্থানীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে নির্মিত আমাদের এই ক্ষুদ্র আয়োজন বিশ্বমঞ্চে এভাবে সমাদৃত হতে দেখা সত্যিই এক বিনম্র অনুভূতি।

এটি প্রমাণ করে যে হোক প্রত্যন্ত গ্রাম কিংবা মহানগর সততা টিকিয়ে রাখার লড়াই এবং ক্ষমতার কাছে মানবিকতার পরাজয়ের ট্র্যাজেডি সবখানেই সমানভাবে সত্য ও সর্বজনীন।

রিভিউ প্রশংসা

‘মাস্টার’ সিনেমাটি নিয়ে সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্রোগ্রাম টিম তাদের অফিসিয়াল রিভিউতে জানিয়েছে, সুমিতের দ্বিতীয় এই সিনেমাটি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নির্মিত। এর উজ্জ্বল কালার প্যালেট গল্পের ভেতরের অন্ধকার দিকগুলোকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলে। নাসির উদ্দিন খান এবং আজমেরী হক বাঁধনের অনবদ্য অভিনয় সিনেমাটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

গল্পের প্রেক্ষাপট

১২৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের ‘মাস্টার’ সিনেমাটি রাজনীতি, শ্রেণি সংঘাত ও মানবিকতার এক জটিল আখ্যান। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন জহির (নাসির উদ্দিন খান), একজন আদর্শবান শিক্ষক, যিনি পরিস্থিতির চাপে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ক্ষমতার স্বাদ পাওয়ার পর নিজের বিবেক, জনমানুষের প্রত্যাশা এবং দুর্নীতির চক্রের মাঝে পড়ে জহিরের বদলে যাওয়ার গল্পই এখানে উঠে এসেছে।

নির্মাণ কারিগরি দক্ষতা

ছবিটির কারিগরি মানে কোনো আপস করা হয়নি। সম্পাদনা করেছেন অস্কার মনোনয়নপ্রাপ্ত ছবির সম্পাদক ক্রিস্টান স্প্রাগ এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন লস অ্যাঞ্জেলেস-ভিত্তিক তাইওয়ানিজ কম্পোজার হাও টিং শি। ছবিটির কালার গ্রেডিং ও সাউন্ড মিক্সিং সম্পন্ন হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ও বুসানের বিশ্বমানের স্টুডিওতে।

‘স্নোপিয়ার্সার’-এর সম্পাদক স্টিভ এম. চো এবং ‘বার্নিং’ সিনেমার সাউন্ড ডিজাইনার হান ম’হুয়ানের তত্ত্বাবধানে কাজ করেছেন বাংলাদেশের সাউন্ড সম্পাদক শৈব তালুকদার ও পরিচালক সুমিত।

ছবিটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান। এছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরীফ সিরাজ, তাসনোভা তামান্না প্রমুখ।

বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় চলচ্চিত্র অনুদানপ্রাপ্ত এই ছবিটি প্রযোজনা করেছে ‘মাইপিক্সেলস্টোরি’। রটারডামের সাফল্যের পর সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘মাস্টার’-এর অন্তর্ভুক্তি বিশ্ব মানচিত্রে বাংলা সিনেমার অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করল।