আসন্ন ঈদে রূপালি পর্দায় নতুন চমক নিয়ে হাজির হচ্ছেন চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ। সিনেমার নাম ‘রাক্ষস’। তবে সিনেমার গল্প আর অভিনয়ের পাশাপাশি যা সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে, তা হলো অভিনেতা সিয়াম আহমেদের লুক। আর এই লুকের কারিগর মোহাম্মদ তারেক এখন ইন্ডাস্ট্রিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
দীর্ঘ যাত্রার ফল
২০০৯ সাল থেকে ফ্যাশন এবং বিজ্ঞাপন জগতে কাজ শুরু করা তারেকের লক্ষ্য ছিল বড় ক্যানভাস। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে ‘রাক্ষস’র মাধ্যমে। পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয়ের কল্পনাকে বাস্তবরূপ দিতে শুটিং শুরুর দেড় মাস আগেই লুক টেস্ট শুরু করেছিলেন তিনি।
তারেক জানান, সিয়াম আহমেদকে চরিত্র অনুযায়ী ফুটিয়ে তুলতে দীর্ঘ সময় মেকআপ ও হেয়ার স্টাইলিং করতে হতো। এমনকি লুকটিকে নিখুঁত করতে ভারত থেকে প্রোস্থেটিক বিশেষজ্ঞ অমিত আম্বারকারকেও যুক্ত করা হয়েছিল।
শ্রীলঙ্কার তপ্ত রোদে কঠিন চ্যালেঞ্জ
সিনেমাটির একটি বড় অংশের শুটিং হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। টানা ২৩ দিন প্রচণ্ড গরমে মেকআপ ধরে রাখা ছিল তারেকের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার প্রচণ্ড গরমে মেকআপ ঠিক রাখা এবং অল্প সময়ে নিখুঁত কাজ করাটা বেশ কঠিন ছিল। তবে টিমওয়ার্ক আর পরিচালক-প্রযোজকের সাপোর্টে সবকিছু সহজ হয়ে গেছে।’
বিদেশের মাটিতে ভাষাহীন স্মৃতি
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে তারেক জানান, শ্রীলঙ্কায় কাজ করার সময় মজার সব ঘটনা ঘটত। শুটিং ইউনিটের অনেকেই শ্রীলঙ্কান ভাষা বুঝতেন না, যা নিয়ে সেটে প্রায়ই হাস্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো। তবে কাজের চাপে সেইসব আনন্দঘন মুহূর্তগুলোই ছিল তাদের অনুপ্রেরণা।
আন্তর্জাতিক মানের স্বপ্ন
শুধু ‘রাক্ষস’ নয়, মোহাম্মদ তারেক স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের মেকআপ শিল্পকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার। তার মতে, মেকআপ কেবল সাজগোজ নয়, এটি চরিত্রের আবেগ ফুটিয়ে তোলার অন্যতম হাতিয়ার। নতুনদের উদ্দেশ্যে তার পরামর্শ— ধৈর্য, ভালোবাসা আর নিয়মিত প্র্যাকটিসই পারে এই পেশায় সাফল্য এনে দিতে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন