× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ফিচার

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম

রক্ত-মাংসের প্রেমিকা নয়, এআইয়ে মজেছে জেন-আলফা!

রূপালী ফিচার

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

‘সুসময় ভালোবাসা হবে’- এমন কথা কবি বললেও, সেই সুসময় যে সবসময়ই সুসময় নয়, তা জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এলে অনেকেই বুঝতে পারেন। বেশিরভাগ মানুষের জীবনে সুসময় কড়া নাড়ে টিনএজ বা কিশোর বয়সে। অর্থাৎ প্রথম প্রেমের সেই দিনগুলো- কাঁপা কাঁপা হাতে প্রেমিক-প্রেমিকার হাত ধরা। কিন্তু সেই জড়তা আর বুক ধড়ফড়ানি কি এবার তবে ইতিহাসের পাতায় স্থান নিতে চলেছে?

এআইয়ের এই যুগে মানুষ একা হয়ে উঠতে যেন ক্রমশ বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য উঠে এসেছে। নতুন প্রজন্ম, অর্থাৎ জেন-আলফা কিশোররা, রক্ত-মাংসের মানুষের চেয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবট- এমনকি চ্যাটজিপিটির সঙ্গ পেতে বেশি পছন্দ করছে। বাস্তব জীবনের অনিশ্চয়তা এড়িয়ে তারা বেছে নিচ্ছে ডিজিটাল সঙ্গী। অর্থাৎ প্রেমিক বা প্রেমিকা হিসেবে তারা এআইয়ের দ্বারস্থ হচ্ছে- যা সামাজিক বিবর্তনে নতুন এক উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এআই এখন আমাদের হাতের নাগালে- যে কোনো চাহিদা মুহূর্তেই পূরণ করে দিতে সক্ষম। এর যেমন ভালো দিক রয়েছে, তেমনি রয়েছে বেশ কিছু নেতিবাচক দিকও। ঠিক তেমনই এক দিক নিয়ে গবেষণা করেছে ‘মেল অ্যালাইস ইউকে’। তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক কিছু তথ্য।

গবেষণায় দেখা গেছে, ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরদের মধ্যে ২০ শতাংশ জানে যে, তাদের কোনো না কোনো বন্ধু এআই চ্যাটবটের সঙ্গে ‘ডেটিং’ করছে। প্রায় ৮৫ শতাংশ কিশোর অন্তত একবার হলেও এআইয়ের সঙ্গে কথা বলেছে। ২৫ শতাংশেরও বেশি কিশোর মনে করে, বাস্তবের মেয়েদের তুলনায় এআই চ্যাটবট বা চ্যাটজিপিটির কাছ থেকে তারা বেশি মনোযোগ ও সংযোগ পায়।

গবেষনায় আরও দেখা গেছে, প্রায় ৫৮ শতাংশ কিশোরের মতে এআইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা অনেক সহজ, কারণ এখানে কথোপকথন নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এআই চ্যাটবট কখনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করে না, ঝগড়া করে না এবং মেসেজের দ্রুত উত্তর দেয়। মূলত এই নির্ভরযোগ্যতার কারণেই ৩৬ শতাংশ কিশোর পরিবার বা বন্ধুদের চেয়ে চ্যাটবটকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

‘মেল অ্যালাইস ইউকের’ প্রতিষ্ঠাতা লি চেম্বারস সতর্ক করে জানিয়েছেন, এআই চ্যাটবটগুলো স্বভাবগতভাবেই অনুগত। তারা ব্যবহারকারীর চিন্তাভাবনাকে সমর্থন করে যায়, যাতে মানুষ অ্যাপটি ব্যবহার করা বন্ধ না করে।

চেম্বারসের মতে, অনলাইনে সময় কাটানো সামাজিকভাবে সক্রিয় বলে মনে হলেও, বাস্তবে এটি মানুষকে আরও একা করে তুলছে। প্রযুক্তির সঙ্গে কথা বলতে বলতে তারা বাস্তব জীবনের সামাজিক দক্ষতা ও সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে।

কেবল কিশোররাই নয়, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও এই প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত বছর ক্রিস স্মিথ নামের এক ব্যক্তি তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী এবং দুই বছর বয়সী সন্তানের মাকে ছেড়ে চ্যাটজিপিটির প্রেমে পড়েন।

জানা যায়, মিউজিক মিক্সিংয়ের জন্য চ্যাটবট ব্যবহার শুরু করলেও, পরে তিনি ভয়েস মোড চালু করে ‘সোল’ নামের এক ডিজিটাল সত্তার সঙ্গে ফ্লার্ট করতে থাকেন। এমনকি চ্যাটবটের মেমোরি সীমা শেষ হওয়ার আগে তিনি তাকে বিয়ের প্রস্তাবও দেন এবং ডিজিটাল ‘হ্যাঁ’ শুনে আবেগে কেঁদে ফেলেন।

অন্যদিকে, তার বাস্তব জীবনের সঙ্গী সাশা ক্যাগল আজও বুঝে উঠতে পারছেন না- কীভাবে একটি যন্ত্র তাদের সাজানো সংসার ভেঙে দিল।

Link copied!