বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় ডেন্টিস্টদের সংখ্যা অপ্রতুল। তাই ডেন্টিস্টদের জন্য ক্যারিয়ারের সুযোগ এখন অনেকটাই উন্মুক্ত। বিডিএস কোর্স সমাপ্ত করার পর একজন চিকিৎসকের রয়েছে উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ। পাস করার পরই নিজের চেম্বারে দক্ষতার সঙ্গে রোগী দেখে কেউ হচ্ছেন প্র্যাকটিশনার; আবার চাকরি করতে চাইলে রয়েছে বিসিএস এবং আর্মি মেডিকেল ও ডেন্টাল কোরে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ। সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজেও রয়েছে শিক্ষকতার সুযোগ। এ ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকে ডেন্টাল সার্জন হিসেবে যোগ দেওয়ার সুযোগ তো রয়েছেই।
এ প্রসঙ্গে রূপালী বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তৌহিদা আলম। যিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জন (বিডিএস) পাস করেছেন। তিনি বলেন, ‘ডেন্টিস্ট্রিতে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই একজন ডাক্তার মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে স্বাধীনভাবে রোগীর চিকিৎসা দিতে পারেন। তার মানে হচ্ছে নিজেই চেম্বার দিতে পারেন। সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর যাতে নির্ভর করতে না হয়, এজন্যই এ প্রফেশনে আসা। এসএসসি এবং এইচএসসি সম্পন্ন করে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ৫ বছর মেয়াদী ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি (বিডিএস) কোর্সে প্রবেশ করানো হয়। ৫ বছরে ৪টা প্রফেশনাল পরীক্ষা দিয়ে পাস করে ডাক্তার হতে হয়। ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় ৫টি বিষয়-ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি, প্রোস্থোডন্টিকস, অ্যান্ডোডন্টিকস, অর্থডন্টিকস এবং পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি পড়ানো হয় ডাক্তার হওয়ার জন্য। ডাক্তারি পাস করার পর আরও ১ বছর শিক্ষানবিশ ডাক্তার হিসেবে যার যার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে বাংলাদেশের একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তার হিসেবে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। ডেন্টিস্ট হওয়ার সুবিধা হচ্ছে পাস করার সঙ্গে সঙ্গেই নিজের চেম্বার দেওয়া যায়। এ জন্য পরবর্তী পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনের তাড়া থাকে না। এ ছাড়া বর্তমানে ডেন্টিস্টের চাহিদা বাড়ছে আমাদের দেশে; যা বহির্বিশ্বে অনেক আগে থেকেই আছে।’
সুবিধা-অসুবিধা প্রসঙ্গে ডেন্টিস্ট তৌহিদা আলম বলেন, ‘অসুবিধা সব পেশাতেই কম বেশি থাকে। তবে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কোয়াকের আধিক্য এবং তাদের মরণঘাতী চিকিৎসা প্রায়ই ডাক্তারদের প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ জন্য অবশ্য সাধারণ মানুষদের সচেতন হতে হবে। আর এ কাজ আপনারা মানে মিডিয়ায় পারবে জনসাধারণের কাছে তুলে ধরতে। সবাইকে জানতে হবে বিডিএস; নয় তো দাঁতের ডাক্তার নয়। তার মানে বিডিএস পাস করেই দাঁতের ডাক্তার হতে হবে। চিকিৎসা জ্ঞানের পাশাপাশি আলাদা কিছু দক্ষতাও অর্জন করতে হবে একজন দাঁতের ডাক্তারকে। এর মধ্যে রয়েছে রোগীর সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, ধৈর্য্যরে সঙ্গে দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা, দাঁতের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রযুক্তির ব্যবহার শেখা, গভীর মনোযোগের সঙ্গে নিখুঁতভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করতে পারা এবং নিজের দক্ষতা বাড়াতে দাঁতের চিকিৎসায় নতুন নতুন পদ্ধতি ও গবেষণা সম্পর্কে খোঁজ রাখা এবং এর চর্চা করা।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন