শীতকালে ঘুমের মধ্যে একটা সমস্যা প্রায়ই হয়। হঠাৎ পায়ের পেশীতে টান ধরে। এমনটা হলে পায়ে প্রচন্ড যন্ত্রণা হয়। চিকিৎসার পরিভাষায় একে মাসল ক্র্যাম্প বলে। কিন্তু কেন হয় এই সমস্যা? চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক-
কম পানি পান করা: পানি কম খাওয়া হলে আচমকা পেশীতে টান ধরতে পারে। এতে পায়ে খুব ব্যথাও হতে পারে। তাই রোজ পর্যাপ্ত পানি পান করেন। সঠিক পরিমাণে পানি পান করা না হলে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়। এতে পেশীতে টান ধরতে পারে।
ভারী ব্যায়াম: জিম কিংবা যোগাসন করেন, এমন ব্যক্তিরা চোট-আঘাত পেলে পেশীতে টান ধরে ব্যথা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অতএব প্রশিক্ষকের পরামর্শ ছাড়া জিম বা যোগাসন কোনোটিই করতে যাবেন না। নিজের শারীরিক ক্ষমতার বাইরে গিয়ে যোগাসন বা ভারী ব্যায়াম করলে মাসল ক্র্যাম্প হতে পারে।
পেশিতে টান ধরলে করণীয় কী?
পেশীতে টান ধরলে বিশেষ করে পায়ের পেশীতে, সঙ্গে সঙ্গে চেষ্টা করুন একটু হাঁটাচলা করার। শুয়ে থাকলে বা এক জায়গায় বসে থাকলে পেশী আরও শক্ত হয়ে যাবে এবং ব্যথা বাড়বে। তাই কষ্ট করে হলেও হাঁটার চেষ্টা করুন। তাহলেই যন্ত্রণা কমবে।
স্যালাইন পান করুন: শরীরে ইলেকট্রলাইটসের ভারসাম্য নষ্ট হলেও পেশীতে আচমকা টান ধরতে পারে। ঘনঘন পেশীতে টান ধরলে, মাঝেমধ্যে লবণ-চিনির পানি বা স্যালাইন খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে শরীরে ইলেকট্রোলাইটসের ভারসাম্য বজায় থাকবে।
খনিজ উপাদানের ঘাটতি পূরণ: পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম- এই তিন উপকরণ শরীরে সঠিক পরিমাণে না থাকলে মাসল ক্র্যাম্প হয়। তাই এই দিকে নজর রাখুন। খুব বেশি পরিমাণে পেশীতে টান ধরলে, পরীক্ষা করিয়ে দেখে নিন, শরীরে এই তিন উপকরণ সঠিক মাত্রায় রয়েছে কি না।
পর্যাপ্ত পানি পান: সঠিক পরিমাণে পানি না খেলে শরীরে ডিহাইড্রেশন হয়। এর জেরে শরীরে সঠিক মাত্রায় রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া সম্ভব হয় না। আর সারা শরীরে সঠিকভাবে ব্লাড সার্কুলেশন সম্পন্ন না হলেও পেশীতে টান ধরতে পারে। তীব্র ব্যথা হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

