× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম

ইতিহাসের সাক্ষী পানাম নগর, ধ্বংসস্তূপের মাঝে আভিজাত্যের ঘ্রাণ

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম

ইতিহাসের সাক্ষী পানাম নগর।  ছবি : সংগৃহীত

ইতিহাসের সাক্ষী পানাম নগর। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে একটি মৃত নগরী। নাম তার ‘পানাম নগর’। ইটের পর ইট গেঁথে তৈরি করা এখানকার ভবনগুলো এখন অনেকটা জরাজীর্ণ, পলেস্তারা খসে পড়েছে বহু আগেই। তবুও এর প্রতিটি ধ্বংসাবশেষের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে কয়েকশ বছরের পুরনো আভিজাত্য, জৌলুস আর রহস্যের হাতছানি।

স্মৃতির সরণি বেয়ে এক হারানো জনপদ
পানাম নগরকে বলা হয় বিশ্বের অন্যতম সুনিপুণভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া নগরীগুলোর একটি। ১৩শ শতকে এটি ছিল বাংলার রাজধানী সোনারগাঁয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে বর্তমান যে দালানগুলো আমরা দেখি, তার অধিকাংশ গড়ে উঠেছিল ১৯শ শতকে, ব্রিটিশ আমলে। সে সময়কার ধনী হিন্দু ব্যবসায়ী ও উচ্চবিত্তদের প্রধান বসতি ছিল এই ৫২টি ভবন।

নগরীর বুক চিরে চলে যাওয়া ৬০০ মিটার দীর্ঘ এক মাত্র রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা এসব দালান দেখলে মনে হয়, যেন কোনো দক্ষ শিল্পী পেন্সিল স্কেচ করে একে সাজিয়েছেন।

স্থাপত্যে আভিজাত্যের ছোঁয়া
পানাম নগরের ভবনগুলোতে দেখা যায় ইউরোপীয় এবং মুঘল স্থাপত্যরীতির এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। ভবনগুলোর নকশায় ইন্দো-সারাসেনিক স্টাইলের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। প্রতিটি ভবনের জানালায় কাঠের কারুকাজ, লতাপাতা আঁকা বারান্দা আর রঙিন মোজাইকের মেঝে আজও অবাক করে দেয় পর্যটকদের।

নগরীর ভবনগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে, একেকটি বাড়ির আঙিনা আর পুকুর ছিল একে অপরের সাথে সংযুক্ত। কোনো কোনো ভবনের ভেতরে এখনও দেখা যায় নাচঘর কিংবা প্রাচীন আমলের পানির কল। তৎকালীন শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যবিদদের হাতের কাজ যেন ধুলোবালির আস্তরণ ভেদ করে আজও কথা বলে ওঠে।

কেন হারিয়ে গেল এই জনপদ?
এক সময় যে জনপদ ছিল কোলাহলমুখর, আজ সেখানে বিরাজ করে এক রহস্যময় নীরবতা। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং পরবর্তীতে দাঙ্গা ও যুদ্ধের কারণে পানামের আদি বাসিন্দারা ধীরে ধীরে দেশ ত্যাগ করে চলে যান। এক পর্যায়ে জনশূন্য হয়ে পড়া এই শহরটি পরিণত হয় ‘ভৌতিক’ বা মৃত নগরীতে। পরিত্যক্ত দালানগুলোর দখল নেয় বট-পাকুড় আর বুনো লতাগুল্ম। ২০০৬ সালে ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ফান্ড পানাম নগরকে বিশ্বের ১০০টি ধ্বংসপ্রায় ঐতিহাসিক স্থানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

ভ্রমণপিপাসুদের হাতছানি
বিকেলের হেলে পড়া রোদে যখন পানামের রাস্তাগুলো রক্তিম হয়ে ওঠে, তখন এর রূপ খুলে যায় কয়েক গুণ। পর্যটকরা এখানে আসেন ইতিহাসের সুবাস নিতে। কেউবা পুরনো কেল্লার দেয়ালের পাশে বসে হারিয়ে যান সুদূর অতীতে। তবে সংস্কারের অভাবে অনেক ভবনই এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এখন এর সংরক্ষণে কাজ করছে, যাতে এই অমূল্য সম্পদ পুরোপুরি বিলীন না হয়ে যায়।

পানাম নগর কেবল ইটের দালান নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্যের এক জলজ্যান্ত দলিল। এই ধ্বংসস্তূপের মাঝে যে আভিজাত্য মিশে আছে, তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় সময়ের নিষ্ঠুর পরিহাস আর প্রাচীন বাংলার সমৃদ্ধিকে। ইতিহাসের এই নীরব সাক্ষীকে একবার নিজ চোখে না দেখলে বাংলার রূপ অনাবিষ্কৃতই থেকে যাবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!