শীতের বিদায় আর বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। তবে এই নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া যেমন আরামদায়ক, তেমনি স্বাস্থ্যের জন্য বয়ে আনতে পারে নানাবিধ ঝুঁকি। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে এ সময় ভাইরাল ফিভার, জলবসন্ত (চিকেনপক্স) এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠে। চিকিৎসকদের মতে, সামান্য সচেতনতা ও সঠিক জীবনযাত্রাই পারে এই ঋতুতে সুস্থ রাখতে।
বসন্তের আগমনে প্রকৃতির রূপ বদলালেও আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়ে ঘরে ঘরে হানা দেয় নানা ঋতুভিত্তিক অসুখ। বিশেষ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বাতাসে ধুলোবালির আধিক্যের কারণে এই সময়ে ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়।
বসন্তকালীন সাধারণ কিছু রোগ
১. জলবসন্ত (Chickenpox): বসন্তকালের সবচেয়ে পরিচিত রোগ হলো জলবসন্ত। এটি একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। শুরুতে হালকা জ্বর ও শরীর ব্যথার পর শরীরে ছোট ছোট গুটি বা পক্স দেখা দেয়।
২. ভাইরাল ফিভার ও সর্দি-কাশি: দিনের বেলা গরম আর রাতে হালকা ঠান্ডার কারণে অনেকেই ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত হন। এর সাথে গলা ব্যথা ও খুশখুশে কাশি দেখা দিতে পারে।
৩. অ্যালার্জি ও অ্যাজমা: বাতাসে ফুলের রেণু এবং ধুলোবালি বেড়ে যাওয়ায় এ সময় শ্বাসকষ্ট বা ধুলোবালিতে অ্যালার্জির সমস্যা বৃদ্ধি পায়।
৪. পেটের পীড়া: তাপমাত্রার ওঠা-নামায় খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, যা থেকে ডায়রিয়া বা ফুড পয়জনিং হতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে করণীয়
বিশেষজ্ঞরা এই সময়ে সুস্থ থাকতে বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছেন:
১. ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা: বাইরে থেকে ফিরে সাবান দিয়ে হাত-মুখ ধোয়া এবং নিয়মিত গোসল করা জরুরি। ধুলোবালি থেকে বাঁচতে বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।
২. আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরত্ব: জলবসন্ত বা ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং তাদের ব্যবহৃত কাপড় বা তোয়ালে আলাদা রাখা উচিত।
৩. খাদ্যাভ্যাস: শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রচুর পরিমাণে পানি, ফলের রস এবং ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার (যেমন: লেবু, আমলকী, পেয়ারা) গ্রহণ করুন। বাসি বা খোলা খাবার পরিহার করুন।
৪. টিকাদান: জলবসন্ত প্রতিরোধে প্রতিষেধক টিকা নেওয়া থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে টিকা নিশ্চিত করা জরুরি।
৫. পর্যাপ্ত বিশ্রাম: যেকোনো ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই দ্রুত সুস্থ হতে প্রচুর বিশ্রাম এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে।
সতর্কবার্তা: জ্বরের মাত্রা বেশি হলে বা শরীরে অস্বাভাবিক কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন