× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১০:৩৫ এএম

নীরব ঘাতক কোলন ক্যানসার, কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকারে করণীয়

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১০:৩৫ এএম

নীরব ঘাতক কোলন ক্যানসার। ছবি : সংগৃহীত

নীরব ঘাতক কোলন ক্যানসার। ছবি : সংগৃহীত

ক্যানসার শব্দটির সঙ্গেই জড়িয়ে আছে এক অজানা আতঙ্ক। আর এই ক্যানসার যখন শরীরের পরিপাকতন্ত্রের অংশ মলাশয় বা কোলনে বাসা বাঁধে, তখন তাকে বলা হয় কোলন ক্যানসার। বর্তমানে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সঠিক সময়ে শনাক্ত করা গেলে এই রোগ নিরাময় সম্ভব হলেও অসচেতনতার কারণে অনেকেই প্রাণ হারান।

কোলন ক্যানসার কী?
আমাদের পেটের নিচের অংশে থাকা বৃহদান্ত্র বা কোলনের কোষগুলো যখন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে, তখন সেখানে টিউমার বা ক্যানসার সৃষ্টি হয়। শুরুতে এটি ছোট পোলিপ বা মাংসপিণ্ড হিসেবে থাকলেও পরে তা ক্যানসারে রূপ নিতে পারে।

কোলন ক্যানসার কেন হয়? (ঝুঁকির কারণসমূহ)
চিকিৎসকদের মতে, কোলন ক্যানসারের সুনির্দিষ্ট কোনো একক কারণ না থাকলেও বেশ কিছু বিষয় এর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়:

অতিরিক্ত রেড মিট গ্রহণ: গরু বা খাসির মাংস এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস (যেমন- সসেজ, বার্গার) বেশি খেলে এই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।

আঁশযুক্ত খাবারের অভাব: খাদ্যতালিকায় শাকসবজি ও ফলমূলের পরিমাণ কম থাকা।

স্থূলতা ও অলস জীবন: শারীরিক পরিশ্রম না করা এবং ওজন অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া।

ধূমপান ও মদ্যপান: যেকোনো ধরনের তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণ কোলনের ক্ষতি করে।

বংশগত কারণ: পরিবারের কারও এই ক্যানসার থাকলে পরবর্তী প্রজন্মের ঝুঁকি থেকে যায়।

উপসর্গ বা লক্ষণসমূহ
অনেক সময় শুরুতে কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। তবে নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:

১. দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বা বারবার ডায়রিয়া হওয়া।
২. মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া (লাল বা কালচে রঙের)।
৩. পেটে ব্যথা, গ্যাস বা মোচড় দেওয়া।
৪. মলত্যাগের পরও পেট পরিষ্কার হয়নি-এমন অনুভূতি হওয়া।
৫. হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া এবং সবসময় দুর্বলতা অনুভব করা।

কোলন ক্যানসার থেকে বাঁচার উপায় (প্রতিকার)
সচেতনতা এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপনই পারে এই রোগ থেকে দূরে রাখতে:

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: প্রতিদিনের তালিকায় প্রচুর পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার যেমন- লাল চাল, লাল আটা, শাকসবজি ও দেশি ফল রাখুন। চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।

পর্যাপ্ত পানি পান: শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।

শারীরিক ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি বা শরীরচর্চা করার অভ্যাস করুন।

স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা: ৫০ বছর বয়সের পর নিয়মিত কোলনোস্কপি করানো উচিত। তবে পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ৪০ বছরের পর থেকেই পরীক্ষা শুরু করা ভালো।

ক্ষতিকর অভ্যাস বর্জন: ধূমপান এবং জর্দা-গুলের মতো তামাকজাত দ্রব্য পুরোপুরি ত্যাগ করুন।

কোলন ক্যানসার মানেই মৃত্যু নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে অস্ত্রোপচার বা আধুনিক থেরাপির মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। তাই পেটের যেকোনো সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!