ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

চোখ ওঠা বা কনজাংটিভাইটিস এর কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
চোখ ওঠা বা কনজাংটিভাইটিস এর কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার। ছবি : সংগৃহীত

হঠাৎ চোখ লাল হওয়া, অনবরত পানি পড়া কিংবা চোখের ভেতর অস্বস্তি- এসবই চোখ ওঠার লক্ষণ। বর্ষা বা ভ্যাপসা গরমে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ে। যদিও সঠিক যত্নে কয়েক দিনেই এটি সেরে যায়, তবে অবহেলা করলে চোখের কর্নিয়ার ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘কনজাংটিভাইটিস’ সাধারণ মানুষের কাছে ‘চোখ ওঠা’ রোগ হিসেবে পরিচিত। এটি একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ, যা মূলত ঋতু পরিবর্তনের সময় বেশি দেখা দেয়। 

চোখ ওঠার প্রধান কারণসমূহ
চোখ ওঠা মূলত তিন ধরনের সংক্রমণের কারণে হতে পারে:
১. ভাইরাসজনিত: এটি সবচেয়ে বেশি ছোঁয়াচে। সাধারণত সর্দি-কাশির ভাইরাসের মাধ্যমেই এটি ছড়ায়।
২. ব্যাকটেরিয়াজনিত: অপরিচ্ছন্ন হাত বা ময়লা পানি চোখে লাগলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়। এতে চোখের কোণে হলুদ বা সাদা রঙের পুঁজ জমতে পারে।
৩. অ্যালার্জিজনিত: ধুলোবালি, ফুলের রেণু বা কেমিক্যাল থেকে অনেকের চোখে অস্বস্তি ও লালভাব হয়।

প্রধান লক্ষণসমূহ
চোখ লাল হওয়া এবং অনবরত পানি পড়া।

চোখের ভেতর বালু ঢুকেছে এমন অস্বস্তি বা খচখচ করা।

ঘুম থেকে ওঠার পর চোখের পাতা একে অপরের সাথে লেগে থাকা।

চোখ ফুলে যাওয়া এবং আলোর দিকে তাকাতে সমস্যা হওয়া।

চোখ চুলকানো বা জ্বালাপোড়া করা।

আক্রান্ত হলে করণীয় (প্রতিকার)
১. বিশ্রাম ও কালো চশমা: আক্রান্ত ব্যক্তিকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। বাইরে বের হলে অবশ্যই কালো সানগ্লাস ব্যবহার করতে হবে যাতে ধুলোবালি না লাগে এবং আলোর কারণে চোখে ব্যথা না হয়।

২. পরিচ্ছন্নতা: আক্রান্ত চোখে হাত দেওয়া যাবে না। চোখ পরিষ্কার করতে নরম টিস্যু বা পরিষ্কার সুতি কাপড় ব্যবহার করুন এবং ব্যবহারের পর তা নিরাপদ স্থানে ফেলুন বা ধুয়ে নিন।

৩. ঠাণ্ডা সেঁক: চোখের জ্বালাপোড়া কমাতে পরিষ্কার কাপড় ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে চোখের ওপর দিয়ে রাখলে আরাম পাওয়া যায়।

৪. ব্যক্তিগত সামগ্রী আলাদা রাখা: আক্রান্ত ব্যক্তির তোয়ালে, রুমাল, বালিশ বা প্রসাধন সামগ্রী অন্য কেউ ব্যবহার করবেন না।

যা করবেন না
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের আই ড্রপ বা স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করবেন না।

চোখ রগড়াবেন না; এতে কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চোখে ঝাপটা দিয়ে পানি দেবেন না; এতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর চেয়ে তুলা ভিজিয়ে আলতো করে পরিষ্কার করা ভালো।

লেন্স ব্যবহারকারী হলে রোগ না সারা পর্যন্ত কন্টাক্ট লেন্স পরা বন্ধ রাখুন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি চোখের দৃষ্টি ঘোলাটে হয়ে যায়, প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয় অথবা ৫-৭ দিনেও কোনো উন্নতি না হয়, তবে দ্রুত চোখের ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।