শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও কিডনির স্বাস্থ্যের প্রতি আমরা অনেকেই উদাসীন। কিডনি আমাদের শরীরের ‘ফিল্টার’ বা ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে, যা রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। বর্তমান সময়ে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও কিডনি রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
আশঙ্কার বিষয় হলো, কিডনি প্রায় ৮০ শতাংশ অকেজো হওয়ার আগে অনেক সময় কোনো বিশেষ উপসর্গ দেখায় না। তাই প্রতিদিনের ছোট ছোট কিছু ভুল অভ্যাস আমাদের অজান্তেই এই অঙ্গটির বড় ধরনের ক্ষতি করে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ থাকতে চাইলে আমাদের নিচের ৫টি প্রচলিত ভুল অভ্যাস অবিলম্বে ত্যাগ করা জরুরি:
১. পর্যাপ্ত পানি পান না করা
কিডনির প্রধান কাজ হলো শরীর থেকে বর্জ্য অপসারণ করা। এর জন্য পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন। আমরা অনেকেই তৃষ্ণা না পাওয়া পর্যন্ত পানি পান করি না, যা কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। শরীরে পানির অভাব হলে রক্তে বিষাক্ত উপাদান জমে যায় এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে মনে রাখতে হবে, অতিরিক্ত পানি পান করাও আবার কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। প্রতিদিন অন্তত ২-৩ লিটার পানি পান করা আদর্শ।
২. অতিরিক্ত লবণ ও চিনি খাওয়ার প্রবণতা
খাবারের পাতে বাড়তি কাঁচা লবণ খাওয়ার অভ্যাস কিডনির উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ। অতিরিক্ত সোডিয়াম কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। একইভাবে, অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার স্থূলতা বাড়ায় এবং পরোক্ষভাবে কিডনিকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত খাবারে থাকা প্রিজারভেটিভ ও লবণ কিডনির জন্য ‘নীরব ঘাতক’।
৩. যত্রতত্র ব্যথানাশক ওষুধ (Painkillers) সেবন
অনেকেই সামান্য মাথাব্যথা বা শরীর ব্যথায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ফার্মেসি থেকে ব্যথানাশক ওষুধ কিনে খান। এনএসআইডি (NSAIDs) জাতীয় ওষুধ দীর্ঘমেয়াদে সেবন করলে কিডনির রক্ত সঞ্চালন কমে যায় এবং এটি স্থায়ীভাবে অকেজো হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘনঘন পেইনকিলার খাওয়ার অভ্যাস আজই বর্জন করুন।
৪. দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখার অভ্যাস
কাজের চাপে বা বাইরে থাকার কারণে অনেকেই দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখেন। এটি কিডনির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখলে মূত্রথলিতে ব্যাকটেরিয়া জন্মায়, যা থেকে সংক্রমণ (UTI) হতে পারে। এই সংক্রমণ পরবর্তীতে কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ে মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
৫. অপর্যাপ্ত ঘুম ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
রাতে ঠিকমতো না ঘুমালে শরীরের অভ্যন্তরীণ মেরামতের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন গড়ে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাদের কিডনির কার্যক্ষমতা দ্রুত কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস বাড়ে, যা কিডনি বিকল হওয়ার প্রধান দুটি কারণ।
কিডনি সুরক্ষা কোনো কঠিন কাজ নয়, কেবল একটু সচেতনতাই যথেষ্ট। উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং বছরে অন্তত একবার কিডনির ফাংশন (যেমন: ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা) যাচাই করা উচিত। মনে রাখবেন, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই হলো কিডনি রক্ষার সেরা উপায়।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন