ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

ঢাকার গুলশানে অবৈধভাবে একটি ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনসহ দুইজনের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ অভিযোগপত্র গ্রহণের পর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালত গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ মার্চ দিন ধার্য করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৫ এপ্রিল দুদক অভিযোগ দায়ের করে যে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান এবং সরদার মোশাররফ হোসেন গুলশান-২ এর ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট অবৈধভাবে গ্রহণ এবং পরে রেজিস্ট্রি করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো টাকা পরিশোধ না করেই ফ্ল্যাট দখল নেন।

মামলায় আরও বলা হয়, এই ফ্ল্যাট বরাদ্দে নিয়মবহির্ভূত সুবিধা নেওয়ার জন্য আসামিরা আইনগত দায়িত্ব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর দুদক টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক এবং সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

উল্লেখ্য, এর আগে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির তিনটি পৃথক মামলায় আসামিদের দোষ প্রমাণিত হওয়ায় দুই বছর করে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান মামলাটি আগের মামলার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি সম্পদের অবৈধ দখলের বিষয়ে সতর্কবার্তা হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।

দুদক জানিয়েছে, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মামলাটি সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এছাড়া, গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পর আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

এই মামলার কারণে রাজনীতি ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিষয়টি আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সরকারি সম্পদের অবৈধ ব্যবহার ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে সংবিধানিক কাঠামোর গুরুত্ব পুনরায় উজ্জ্বল করে।