ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

আদালতে আনা-নেওয়ার সময় সোহেল রানার কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ২, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সি শিশু রামিসাকে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতে আনা-নেওয়ার সময় প্রধান আসামি সোহেল রানার গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া বা মন্তব্য করা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলার বাদী ও নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার সাক্ষ্যের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রমের এ ধাপ শুরু হয়।

শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, কাস্টডিতে থাকা কোনো আসামির বিচারকের অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে মন্তব্য করার সুযোগ নেই। কিন্তু প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে আনা-নেওয়ার সময় বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন, যা গণমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে। এতে বিচারপ্রক্রিয়া প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ আবেদনের পর আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে আসামিদের আদালতে হাজির ও ফেরত নেওয়ার সময় তারা যেন কোনো ধরনের বক্তব্য দিতে না পারেন, সে বিষয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

এদিন সকালে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং অপর আসামি স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

আদালত সূত্র জানায়, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্বে ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বাসিন্দাসহ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হবে। রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করেছে।

এর আগে সোমবার আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে সাক্ষীদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত রামিসা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৯ মে নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে খুঁজতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

পরদিন নিহত শিশুর বাবা পল্লবী থানায় হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হলে মামলাটি বিচারিক কার্যক্রমে প্রবেশ করে।