আর কদিন বাদেই দেশজুড়ে জেঁকে বসবে গ্রীষ্মের দাবদাহ। এই তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠলে মানুষের মধ্যে ঠান্ডা পানীয় এবং বাইরের খাবারের প্রতি ঝোঁক বেড়ে যায়। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, গরমে সুস্থ থাকতে রাস্তার ধারের খোলা খাবার এবং অস্বাস্থ্যকর পানীয় পরিহার করা জরুরি। সামান্য অসতর্কতায় পানিবাহিত রোগ ও পেটের পীড়া মারাত্মক রূপ নিতে পারে।
কেন বাইরের খোলা খাবার বিপজ্জনক?
১. দ্রুত পচনশীলতা: গরমে বাতাসে আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা বেশি থাকায় খাবার খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে দুধের তৈরি খাবার, মাছ, মাংস বা ঝোল জাতীয় খাবারে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করে, যা খেলে ফুড পয়জনিং হতে পারে।
২. পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি: রাস্তার ধারের লেবুর শরবত, আখের রস বা মালাই বরফ তৈরিতে ব্যবহৃত পানি ও বরফ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনিরাপদ। এর মাধ্যমে টাইফয়েড, জন্ডিস (হেপাটাইটিস এ এবং ই) এবং ডায়রিয়ার মতো রোগের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে।
৩. ধুলোবালি ও মাছি: খোলা খাবারে রাস্তার ধুলোবালি ও মাছি অনবরত বসতে থাকে। মাছি তার পায়ে করে অসংখ্য জীবাণু বহন করে আনে, যা থেকে কলেরার মতো মারাত্মক রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে।
গরমে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন:
রাস্তার ধারে কাটা ফল (যেমন: তরমুজ, পেঁপে বা আনারস)।
উন্মুক্ত শরবত ও বরফ মেশানো পানীয়।
অতিরিক্ত মসলাযুক্ত ও ভাজাভুজি খাবার।
দীর্ঘক্ষণ আগে রান্না করা খোলা স্টলের খাবার।
সুস্থ থাকতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ:
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। এ সময় সুস্থ থাকতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি:
বিশুদ্ধ পানি: যেখানেই যান, সাথে নিজের নিরাপদ খাবার পানি রাখুন।
বাড়ির খাবার: যতটা সম্ভব ঘরে তৈরি তাজা খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। বাসি খাবার এড়িয়ে চলুন।
মৌসুমী ফল: বাইরের কাটা ফল না খেয়ে আস্ত ফল কিনে ভালো করে ধুয়ে বাড়িতে কেটে খান।
হালকা খাবার: গরমে প্রোটিন ও ফ্যাট জাতীয় খাবারের বদলে সহজে হজম হয় এমন হালকা খাবার (যেমন: লাউ, ঝিঙা, পটল ও টক দই) খাদ্যতালিকায় রাখুন।
গরমের এই সময়টিতে পানিশূন্যতা ও পেটের সমস্যা থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। একটু সচেতন হয়ে বাইরের খোলা খাবার পরিহার করলেই পরিবারসহ সুস্থ থাকা সম্ভব।
সতর্ক বার্তা: যদি প্রস্রাবের রং হলুদ হয়ে যায়, ক্লান্তি লাগে বা পেট খারাপের লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত পর্যাপ্ত স্যালাইন পান করুন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


