জুলাই বিপ্লবী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদির মরদেহ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নেওয়া হয়েছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শহীদ ওসমান হাদির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে মরদেহ নেওয়া হয় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে। সেখানে গোসল ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে মিছিলসহকারে মরদেহ নিয়ে আসা হয় জাতীয় সংসদসংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর দক্ষিণ প্লাজায়।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শহীদ ওসমান হাদির জানাজা বাদ জোহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে এবং তাকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে।
শহীদ ওসমান হাদির জানাজার নামাজে ইমামতি করবেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ও ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব মো. আব্দুল আহাদ জানান, জানাজা শেষে নজরুল সমাধি প্রাঙ্গণে দাফন সম্পন্ন হবে।
জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ফার্মগেট, বিজয় সরণি, আসাদগেটসহ আশপাশের এলাকায় জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়। একের পর এক মিছিল জানাজাস্থলে প্রবেশ করে। স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা—‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগ চলাকালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অস্ত্রোপচারের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারিভাবে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তবে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় ১৮ ডিসেম্বর রাতে সিঙ্গাপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পরদিন ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে আনা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন