ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

পে-স্কেল স্থগিত হলেও বাড়তে পারে বেতন

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আর্থিক সংকট ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল ঘোষণা থেকে সরে এসেছে। তবে সরকারের নির্দেশে গঠিত পে-কমিশন তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে এবং একটি বেতন কাঠামোর ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করবে।

গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পে-কমিশনের একটি দীর্ঘ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান।

সূত্র জানিয়েছে, কমিশন চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেবে, কিন্তু সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে তা ঘোষণা করা হবে না। নতুন বেতন কাঠামো নির্বাচিত সরকারের হাতে হস্তান্তর করা হবে এবং পরে বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নবম পে-স্কেল প্রণয়ন প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পে-কমিশনের চূড়ান্ত সভা আগামী ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সুপারিশ চূড়ান্ত করে প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হবে। তবে নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না।

পে-কমিশনের একটি সূত্র জানায়, বেতনের অনুপাত নিয়ে তিনটি প্রস্তাব ছিল—১:৮, ১:১০ এবং ১:১২। এর মধ্যে ১:৮ অনুপাত চূড়ান্ত করা হয়েছে। সর্বনিম্ন বেতনের ক্ষেত্রে তিনটি প্রস্তাব এসেছে— ২১, ১৭ এবং ১৬ হাজার টাকা। নতুন বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত নির্দেশ করা হয়েছে। যেমন, ২০তম গ্রেডের কর্মচারীর বেতন যদি ১০০ টাকা হয়, তাহলে সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন হবে ৮০০ টাকা (১:৮ অনুপাত অনুযায়ী)।

মূল্যস্ফীতি ও আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ২৩ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশন সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেবে।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে সময়মতো বেতন কাঠামো ঘোষণা করা সম্ভব নয়, তবে সময় সুযোগ পেলে তা নতুন সরকারের হাতে হস্তান্তর করা হবে এবং পরে বাস্তবায়ন করা হবে।