ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নির্বাচনে গুজব-ভুয়া তথ্য প্রতিরোধের আশ্বাস জাতিসংঘের

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। ছবি- সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া খবর ও গুজব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক ।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এ কথা জানান।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের সময় দেশে গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে এ ধরনের তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়ানো হচ্ছে, যা নির্বাচনের সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।  

এ বিষয়ে ড. ইউনূস জানান, এই ভুয়া খবর ও গুজব স্থানীয় ও বিদেশি উভয় উৎস থেকে আসছে, এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

ভলকার তুর্ক বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে সচেতন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে এই সমস্যা মোকাবিলায় সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, যেকোনো প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। নির্বাচনকালীন সময়ে দেশের জনগণ যাতে সঠিক তথ্য পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।

ফোনালাপে দুই নেতা শুধু নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেননি, বরং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের অগ্রগতি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) পুনর্গঠন এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। হাইকমিশনার ‘প্রকৃত অর্থে স্বাধীন’ মানবাধিকার কমিশন গঠনের গুরুত্ব পুনরায় জোর দেন।

জবাবে প্রধান উপদেষ্টা জানান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ইতোমধ্যে জারি করা হয়েছে এবং নির্বাচন শুরুর আগেই নতুন কমিশন পুনর্গঠন করা হবে। তিনি আরও জানান, গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনও জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এটি ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে স্বৈরশাসনামল থেকে গুম হওয়া ব্যক্তিদের জন্য জবাবদিহি ও ন্যায়ের নিশ্চয়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রধান উপদেষ্টার নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করে ভলকার তুর্ক জানান, গুম তদন্ত কমিশনের প্রতি সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন, জাতিসংঘ ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করবে।

ফোনালাপে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদও উপস্থিত ছিলেন। দুই পক্ষই একমত হয়েছেন, যে ভুয়া খবর, গুজব ও বিভ্রান্তি মোকাবিলা না করলে নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে। তাই এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।