ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন নির্ধারণ করল সরকার

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

সারা দেশের মসজিদগুলোর ইমাম-মুয়াজ্জিনদের দীর্ঘদিনের বেতনবৈষম্য দূর করতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর আওতায় বিভিন্ন গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খতিব ছাড়া মসজিদে কর্মরত অন্যান্য জনবলের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো কার্যকর হবে। খতিবদের বেতন নির্ধারিত হবে চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী। তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুসারে বেতন-ভাতা নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী সিনিয়র পেশ ইমামকে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী পঞ্চম গ্রেডে, পেশ ইমামকে ষষ্ঠ গ্রেডে এবং ইমামকে নবম গ্রেডে বেতন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান মুয়াজ্জিন দশম গ্রেড, মুয়াজ্জিন একাদশ গ্রেড, প্রধান খাদিম পঞ্চদশ গ্রেড এবং খাদিম ষোড়শ গ্রেডে বেতন পাবেন।

উৎসব ভাতার বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে এ নীতিমালার অনুচ্ছেদ-১৪-এর অনুরূপ নিয়োজিত জনবলকে তাদের স্ব স্ব এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ উৎসব ভাতা দেওয়া হবে। এ ছাড়া, মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি মসজিদে কর্মরত জনবলের প্রয়োজন বিবেচনা সাপেক্ষে সপরিবারে আবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

মসজিদের কর্মরত ব্যক্তিদের ছুটি নিয়ে এতে বলা হয়েছে, মসজিদে কর্মরত ব্যক্তিরা মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদনক্রমে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৪ দিন সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন। পবিত্র রমজানে সর্বোচ্চ ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন। তবে এ ছুটি একাদিক্রমে ১০ দিনের ঊর্ধ্বে হবে না। প্রতি ১২ দিনে ১ দিন অর্জিত ছুটি প্রাপ্য হবেন। এ ছুটি ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও চিকিৎসাজনিত কারণে এককালীন সর্বোচ্চ ৩০ দিন ভোগ করতে পারবেন। ছুটিকালীন কর্মরত ব্যক্তি নির্ধারিত বেতন-ভাতা পাবেন।

বেতন কাঠামোর পাশাপাশি মসজিদের জনবলের জন্য কিছু কঠোর আচরণবিধি যুক্ত করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে—মসজিদের কোনো জনবল কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না, ইমাম ও খতিবদের মুসল্লি ও এলাকাবাসীর নৈতিক মানোন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে, অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা বা কর্মস্থল ত্যাগ করা শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ হিসেবে গণ্য হবে।