ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শীর্ষ দুর্নীতিবাজ, ঋণখেলাপি, দুর্বৃত্ত, উগ্রবাদ ও ধর্ম ব্যবসায়ী প্রার্থীদের বয়কট, সৎ যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত করা ও গণভোটের সমর্থনে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক সিলেট কোর্ট পয়েন্টে দুর্নীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এক বিরাট নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
দুর্নীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইকবাল হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে নাগরিক সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জননেতা মকসুদ হোসেন।
নাগরিক সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে নির্বাচনে মানেই টাকার খেলা। একটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে করলেও কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। আর জাতীয় সংসদ নির্বাচন করলে তো কথাই নেই। কোটিপতিদের ভিড়ে আলোচিত গরিব প্রার্থীরা অসহায়। নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার সাথে সাথে জুলাই সম্মুখ সারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি নিহত হওয়ার পর থেকে খুন-নৈরাজ্য থেমে নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই নাজুক। এবারের সংসদ ইচ্ছাপূরণের সংসদ ও কোটিপতিদের ক্লাবের পরিণত না হয় সে লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ, ঋণখেলাপি ও উগ্রবাদ প্রার্থীদের পরাস্ত করতেই হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেলে (অব.) সৈয়দ আলী আহমদ বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশ, টিআইবির বিশ্লেষণে নির্বাচনে মোট প্রার্থীর মধ্যে সাড়ে ২৫ শতাংশের কোনো না কোনো ঋণ বা দায় রয়েছে। তাদের মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮ শত ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ১৭ হাজার ৪ শত ৭১ কোটি টাকার বেশি। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ ঋণ বা দায়গ্রস্ত। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৩৩ শতাংশ, জাতীয় পার্টির ২৭ শতাংশ, কমিউনিস্ট পার্টির ২৫ শতাংশ, বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামীর ২২.২৬ শতাংশ প্রার্থী ঋণ বা দায়গ্রস্থ। দেশবাসী কোটিপতি, লুটেরাদের সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায় না।
সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি ইকবাল হোসেন চৌধুরী ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, লাখো শহীদের রক্তে কেনা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে উন্নত বাংলাদেশে পরিণত করতে হলে মানুষরূপী জানোয়ার, দুর্নীতিবাজ, ঋণখেলাপিদের ব্যালটের মাধ্যমে বয়কট করার আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় শ্রমবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শিতাব ও যুব ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক রিকন তালুকদার লিখনের যৌথ পরিচালনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন: লেফটেন্যান্ট কর্নেলে (অব.) সৈয়দ আলী আহমদ। বক্তব্য রাখেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নেছারুল হক চৌধুরী বুস্তান স্যার, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. অরুণ কুমার দেব, মামুন রশীদ অ্যাডভোকেট, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মো. লায়েক মিয়া, যুগ্ম সম্পাদক তারেক আহমদ বিলাস, ফোরামের কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক অরুণ চন্দ্রনাথ অ্যাডভোকেট, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহিদুর রহমান জুনু, অর্থ সম্পাদক ড. চিন্ময় চৌধুরী, সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সহ-শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শ্রমিক নেতা মিজান গাজী, সিলেট কল্যাণ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এইচ এম কিউ মঈনুল ইসলাম আশরাফী, কেন্দ্রীয় সদস্য মাইন উদ্দিন, মশিউর রহমান, আবু তাহের, যুব ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান প্রমুখ।

