× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে কাজ করবে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ও মানস

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম

ছবি-রূপালী বাংলাদেশ

ছবি-রূপালী বাংলাদেশ

বিনোদন মাধ্যমে তামাক সেবন ও ধূমপানের দৃশ্য নিষিদ্ধ করে অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন এর সংশোধন করে প্রণীত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫’ এর কার্যকর বাস্তবায়ন এবং মাঠ পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ও মানস। এ বিষয়ে বিনোদন অঙ্গনসহ সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। 

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে তথ্য ভবনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) এর যৌথ আয়োজনে ‘বিনোদন মাধ্যমে ধূমপানের দৃশ্য বন্ধে আইন ও নীতি প্রতিপালন: মাঠ পর্যায়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের করণীয়’ শীর্ষক সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। 

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল। 

মানস এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান, চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড সদস্য ও অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক সৈয়দ এ. মামুন, ঢাকা জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহসিন ফরাজী, এনজিও ব্যুরো’র এসাইন্টমেন্ট অফিসার সিরাজুল ইসলাম খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো’র প্রকল্প পরিচালক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল প্রমুখ। সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস এর টেকনিক্যাল এডভাইজার আমিনুল ইসলাম সুজন এবং সমাপনী বক্তব্য রাখেন মানস এর সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান তালুকদার। সভা সঞ্চালনা করেন মানসের সিনিয়র প্রজেক্ট ও কমিউনিকেশন অফিসার মো. আবু রায়হান। সভায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং ওটিটি নীতি দ্রুত চূড়ান্তকরণ ও একটি গাইডলাইন প্রণয়নের সুপারিশ তুলে ধরেন বক্তারা।

এসময় আমিনুল ইসলাম সুজন মূলপ্রবন্ধে বলেন, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতি বছর ১ লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী বিনোদন মাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তামাকের দৃশ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু, সিনেমা, নাটক ও ওয়েবসিরিজে নানাভাবে ধূমপানের দৃশ্য দেখানো হচ্ছে, যা তরুণদের তামাক ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। 

তিনি বলেন, ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও ভুটানের মতো দেশগুলো চলচ্চিত্র ও টিভিতে তামাক দৃশ্য কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে, যা বাংলাদেশেও অনুসরণ করা প্রয়োজন। গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মাঠপর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং ওটিটি’র গাইডলাইন প্রনয়নের সুপারিশ তুলে ধরেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আবদুল জলিল বলেন, ভালো কাজে সবার এগিয়ে আসা উচিৎ। ধূমপান, মাদক ইত্যাদিকে প্রমোট করা মানে আগামী প্রজন্মকে বিপদে ঠেলে দেওয়া। দেশে ধূমপান বিরোধী আইন ও নীতি প্রণীত  হলেও শুধু আইন করে এটা বন্ধ করা সহজ নয়। এর মোকাবেলায় পরিবার থেকে কাজ শুরু করতে হবে। ভ্যালু সিস্টেমে পরিবর্তন এনে মাদক ও ধূমপানের  বিরুদ্ধে  জনমত গঠন করতে হবে। 

তিনি বলেন, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫)’ এর আলোকে প্রাতিষ্ঠানিক ম্যান্ডেট অনুযায়ী গণযোগাযোগ অধিদপ্তর সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে জনসচেতনতা তৈরিতে জেলা তথ্য অফিসসমূহের উঠান বৈঠক,  কমিউনিটি সভা, নারী সমাবেশ,  তরুণ সমাবেশ, সংগীতানুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে এ বিষয়ে বিশেষ বার্তা তুলে ধরা হবে।

এসময় তিনি গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সকল অফিস তামাকমুক্ত রাখার ঘোষণা দেন।

অধ্যাপক ডা. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, বিনোদন মাধ্যমে তামাকের দৃশ্য তরুণদের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। কারণ ধূমপান মাদকাসক্তির পবেশ পথ। সরকার সম্প্রতি তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করেছে, যেখানে সকল বিনোদন মাধ্যমে ধূমপানের দৃশ্য প্রচার নিষিদ্ধ। এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। মানস দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্র, নাটক ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত কন্টেন্টে তামাক ব্যবহারের দৃশ্য পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করে আসছে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন ও জনসচেতনতায় গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ, জনসচেতনতা সৃষ্টি ও আচরণ পরিবর্তনের মাধ্যমে তামাকের ব্যাবহার ত্রাস করা সম্ভব। ওটিটি’র নীতিমালা চূড়ান্ত করতে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এসময় মোহসিন ফরাজী বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আলোচনার ভিত্তিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

সভায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ডেভেলপমেন্ট এ্যাক্টিভিটিস অব সোসাইটি (ডাস), গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটি এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!